হরিণ ছানাকে মাতৃদুগ্ধ পান করাচ্ছেন বিশনোই বধূ, ভাইরাল সেই ছবি

মায়ের মমতার কোনও বিকল্প হয় না, দেশ কাল প্রাণী ভেদে সেই অপত্য স্নেহ একই থেকে যায়। তাইতো মানুষ মায়ের কোলে শুয়ে দুধ খাচ্ছে ছোট্ট হরিণ ছানা। সম্প্রতি এমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

হরিণ ছানাকে মাতৃদুগ্ধ পান করাচ্ছেন বিশনোই বধূ (Photo Credit: Twitter)

যোধপুর ১৯ জুলাই: মায়ের মমতার কোনও বিকল্প হয় না, দেশ কাল প্রাণী ভেদে সেই অপত্য স্নেহ একই থেকে যায়। তাইতো মানুষ মায়ের কোলে শুয়ে দুধ খাচ্ছে ছোট্ট হরিণ ছানা। সম্প্রতি এমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখাচ্ছে রোগাপাতলা এক রাজস্থানি নারী পরম মমতায় এক হরিণ ছানাকে বুকে আঁকড়ে রেখেছেন। সেইসঙ্গে তাকে স্তন্যপানও করাচ্ছে। হরিণ শাবকটিও কেমন নিশ্চিন্তে চোখ বুজে দুধ ও মায়ের আদর খাচ্ছে। বেশ বুঝেছে এখানে তার কোনও বিপদ নেই আরাম ছাড়া। আরও পড়ুন- বাংলাদেশটা ঠিক কোথায়? ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশ্নে নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড়

রাজস্থানের বিশনোই সম্প্রদায়ের পশুপ্রেম অজানা নয়। এখানকার বিখ্যাত কৃষ্ণসার হরিণকে ঈশ্বর রূপে পুজো করে এই সম্প্রদায়। আর সেই হরিণকেই মেরে ফেলেছিলেন অভিনেতা সলমন খান। তাই তাঁর কড়া শাস্তির দাবিতে প্রথম থেকেই সরব বিশনোই সম্প্রদায়। তবে যাইহোক নিজের সন্তানদের সঙ্গেই এই হরিণছানাদেরও প্রতিপালন করেন বিশনোই বধূরা। তাঁদের কাছে সবাই সন্তানসম। সম্প্রতি আইএফএস আধিকারিক প্রবীণ কাসওয়ান সম্প্রতি এই ছবি শেয়ার করেছেন নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে। সেখানে লিখেছেন, দেখুন কীভাবে পরম মমতায় হরিণ শাবককে স্তন পান করাচ্ছেন বিশনোই মা।  এঁরা সেই সম্প্রদায়, যাঁরা খেজুর গাছ বাঁচাতে ১৭৩০ সালে রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করে বলিদান দিয়েছিলেন ৩৬৩টি তাজা প্রাণ। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি।

মায়ের স্নেহ দেখে আবেগে ভেসেছেন নেটিজেনরা। সকলেই বলছেন, একজন আদর্শ মায়ের মতোই কাজ করেছেন এই মহিলা। অনেকেই বলছেন, “গ্রামের মানুষ গৃহপালিত পশুদের পরম যত্ন করেন এ কথা জানা। তবে নিজের সন্তান ভেবে কোনও বন্যপ্রাণীকে স্তন্য পান করানোর ঘটনা নজিরবিহীন। মহিলা ঈশ্বরসম। এবং একজন আদর্শ মা-ও বটে।” কেউ বা বলছেন, “পৃথিবীতে এত হিংসা-হানাহানির মধ্যেও যে মানবতা বজায় আছে, এই দেহাতি মহিলা তা আবারও বুঝিয়ে দিলেন। সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে সকলকে দেখিয়ে দিলেন সত্যিই পশুপ্রেম কাকে বলে।”

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement