যুগলকে হেনস্থা, তরুণীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরা যুবকের ভিডিও ভাইরাল: তীব্র ক্ষোভ নেটিজেনদের
বিহারের জমুই জেলা থেকে একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে এক তরুণী ও এক যুবককে ঘিরে রয়েছে একদল পুরুষ।
বিহারের জমুই জেলা থেকে একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে এক তরুণী ও এক যুবককে ঘিরে রয়েছে একদল পুরুষ। তার মধ্যে এক যুবককে পেছন থেকে তরুণীটিকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখা যায়, এবং তরুণীটি অত্যন্ত বিপন্ন ও অসহায় বোধ করছেন। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নেটদুনিয়ায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ঘটনার সঠিক সময়, স্থান কিংবা ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও অফিসিয়াল বক্তব্য বা এফআইআর (FIR)-এর কথা জানানো হয়নি।
ভিডিওতে ঠিক কী দেখা গেছে?
রবিবার সন্ধ্যা থেকে এক্স (টুইটার) সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটির একাধিক সংস্করণ ঘুরপাক খাচ্ছে। একটি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ভিডিও ক্লিপে স্থান হিসেবে 'জমুই' ট্যাগ করা রয়েছে। রাতের অন্ধকারে বাইকের আলো এবং টর্চের স্পষ্ট আলোয় সাদা টপ ও গাঢ় রঙের প্যান্ট পরিহিত এক তরুণীকে দেখা যায়। পাশে এক যুবক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে এক ব্যক্তিকে পেছন থেকে ওই তরুণীকে টেনে ধরে থাকতে দেখা যায়। তরুণীটি চরম উত্তেজিত ও আতঙ্কিত অবস্থায় হাত তুলে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করেন। চারপাশে বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখছিল এবং অনেকেই তা মোবাইলে বন্দি করছিল। অপর একটি ছোট ক্লিপে তরুণীর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও তাঁর আকুল আকুতির দৃশ্য স্পষ্ট।
ঘটনাটি নজরে আসার পর নেটিজেনরা বিহার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ট্যাগ করে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী 'PinkiePragya' একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, "যদি এই ভিডিওটি সত্যি হয়, তবে বিহার পুলিশের উচিত দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এক যুগলকে যৌন হেনস্থা করার অপরাধে যুক্ত সকল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ক্ষোভ
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এই ঘটনাকে "সোজা গুন্ডামি" এবং "নৈতিক পাহারাদারি" (Moral Policing) বলে আখ্যা দিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এটি কেবল যৌন হেনস্থা নয়, প্রকাশ্যে গুন্ডামি। একজন নারী কারও সম্পত্তি নন। সম্মতি ছাড়া স্পর্শ করা পশুর সমান আচরণ।" অন্য একজন নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন যে, সেখানে উপস্থিত এতজন মানুষ সাহায্য করার বদলে কীভাবে দাঁড়িয়ে ভিডিও তুলছিল। একই সাথে সংস্কৃতি রক্ষার নামে চরম অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও পটভূমি
বিহারে নৈতিক পাহারাদারি বা যুগলদের হেনস্থা করার ঘটনা এর আগেও দেখা গেছে। সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিওর সূত্র ধরে পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। তবে জমুই পুলিশ বা বিহার পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট ঘটনাটির বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত পুলিশকে ট্যাগ করা হচ্ছে যাতে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা যায়।
জরুরি হেল্পলাইন নম্বর:
মহিলা ও শিশুদের সহায়তায়:
* চাইল্ডলাইন ইন্ডিয়া:১০৯৮
* নিখোঁজ শিশু ও নারী সহায়তা: ১০৯৪
* মহিলা হেল্পলাইন:১৮১
* জাতীয় মহিলা কমিশন (জরুরি পরিষেবা):১১২
* জাতীয় মহিলা কমিশন (সংহিংসতাবিরোধী হেল্পলাইন):৭৮২৭১৭০১৭০
* পুলিশ ও বয়স্ক নাগরিক হেল্পলাইন:১০৯১ / ১২৯১
পুরুষদের সহায়তায়:
* মিলাপ (Milaap): ৯৯৯০৫৮৮৭৬৮
* অল ইন্ডিয়া মেন হেল্পলাইন: ৯৯১১৬৬৬৪৯৮
* মেন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট: ৮৮৮২৪৯৮৪৯৮