Guna School Incident: ছাত্রীদের প্রস্রাব মেশানো জল খাইয়ে শিক্ষকের পরামর্শ, '১০ টাকার চকলেট খেয়ে নাও!'

মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র তার দুই সহপাঠী ছাত্রীর ওয়াটার বোতলে প্রস্রাব মিশিয়ে দেয় এবং তাদের তা পান করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ।

Guna School Incident.

Guna School Incident: মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র তার দুই সহপাঠী ছাত্রীর ওয়াটার বোতলে প্রস্রাব মিশিয়ে দেয় এবং তাদের তা পান করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। তবে এই ঘটনার চেয়েও স্তম্ভিত করেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা। আক্রান্ত ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি বিষয়টি হালকাভাবে উড়িয়ে দিয়ে তাদের ১০ টাকার চকলেট খেয়ে মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র প্রতিবাদে এলাকা জুড়ে তুমুল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অ্যারন ব্লকের স্কুলে ঠিক কী ঘটেছিল?

গত সোমবার, ১৭ অগস্ট মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার অ্যারন ডেভেলপমেন্ট ব্লকের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। পিটিআই (PTI) সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই দুই ছাত্রী নিজেদের বোতল থেকে জল পান করার পর বোতলের জলে দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিকতা টের পায়। তারা বুঝতে পারে জলের সাথে অনৈতিক কিছু মেশানো হয়েছে। জল পানের পর চরম অস্বস্তিতে পড়া ওই দুই শিশু দ্রুত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘরে যায় এবং সহপাঠীর এই কুকীর্তির কথা জানায়। কিন্তু ন্যায়বিচার বা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বদলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টিকে কৌতুক হিসেবে দেখেন। গুনা জেলার জেলাশাসক কিশোর কুমার কানিয়াল জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক ওই শিশুদের চরম বিরক্তির সাথে বলেন, "মুখের স্বাদ খারাপ লাগছে তো? যাও, বাজার থেকে ১০ টাকার চকলেট কিনে খেয়ে নাও।"

প্রশাসনিক তদন্ত ও শোকজ নোটিশ

ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই জেলা প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। অ্যারন মহকুমা শাসক (SDM) মঞ্জুষা খাত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি স্থানীয় তহসিলদার এবং ব্লক শিক্ষা আধিকারিককে (BEO) অবিলম্বে স্কুলে গিয়ে পুরো ঘটনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার ও বয়ান রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। বিইও-কে আগামী দু'দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:

প্রধান শিক্ষককে শোকজ: কর্তব্যে চরম গাফিলতি ও সংবেদনহীন আচরণের জন্য কারণ দর্শানোর (Show-Cause) নোটিশ পাঠানো হয়েছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে।

অভিযুক্ত ছাত্র ও অভিভাবকদের তলব: যে ছাত্রের বিরুদ্ধে জলে প্রস্রাব মেশানোর অভিযোগ উঠেছে, তাকে এবং তার অভিভাবকদের অবিলম্বে প্রশাসনের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য ছাত্রদের ভূমিকা:এই চক্রে অন্য কোনো ছাত্র জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

স্কুলে পরিবার ও গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ, পুলিশ মোতায়েন

মঙ্গলবার, ১৮ অগস্ট এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা স্কুলের সামনে ভিড় জমান। তারা স্কুলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক শাস্তির দাবিতে সরব হন তারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ও কর্তারা স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করেন। আক্রান্ত শিশু, তাদের পরিবার এবং অভিযুক্তপক্ষের বয়ান লিপিবদ্ধ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্যজুড়ে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement