Fact Check: জাপানের পার্লামেন্টে অসংলগ্ন পোশাকে মহিলা! ভাইরাল ভিডিওর আসল সত্য প্রকাশ করল ফ্যাক্ট চেক

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জোড়া ভিডিও দারুণভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, জাপানের জাতীয় পার্লামেন্ট অর্থাৎ ন্যাশনাল ডায়েটের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলাকালীন এক রাজনীতিকের পেছনের আসনে অসংলগ্ন বা খোলামেলা পোশাকে এক মহিলা বসে ছিলেন।

Fa ct Check:সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জোড়া ভিডিও দারুণভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, জাপানের জাতীয় পার্লামেন্ট অর্থাৎ ন্যাশনাল ডায়েটের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলাকালীন এক রাজনীতিকের পেছনের আসনে অসংলগ্ন বা খোলামেলা পোশাকে এক মহিলা বসে ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই দৃশ্যটি একেবারেই ভুয়ো ও ভিত্তিহীন। তথ্য যাচাইকারী দল এবং এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ওই নারীকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিডিওটিতে বসানো হয়েছে।

কী দাবি করা হয়েছিল ভাইরাল ভিডিওতে?

সামাজিক মাধ্যম এক্সের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৫ সেকেন্ডের দুটি সংক্ষিপ্ত ক্লিপ ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্যুট ও চশমা পরিহিত এক পুরুষ রাজনীতিক ডায়েট কক্ষের ভেতরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন। ঠিক তাঁর পেছনের সারিতে অন্য আইনপ্রণেতাদের মধ্যে একটি সাদা ও কালো রঙের গভীর গলার পোশাক পরা নারী বসে আছেন, যাঁর হাতে একটি নোটবুক রয়েছে এবং তিনি বক্তব্য শোনার সময় নোট নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।

একই ধাঁচের দ্বিতীয় ক্লিপ

একই ধাঁচের দ্বিতীয় ক্লিপটিতে একইরকম আনুষ্ঠানিক পরিবেশে অন্য এক রাজনীতিককে কথা বলতে দেখা যায় এবং তাঁর পেছনেও প্রায় একই ধরনের পোশাকে অন্য এক নারীকে বসে থাকতে দেখা যায়। দৃশ্যত ভিডিও দুটি জাপানের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকের অফিসিয়াল সম্প্রচারের মতো দেখতে হওয়ায়, অনেকেই ধরে নেন যে সত্যিই পার্লামেন্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে।

ফ্যাক্ট চেকে সামনে এল আসল সত্য

নিবিড় অনুসন্ধানের পর জানা গেছে যে, সামাজিক মাধ্যমের এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। উভয় ভিডিওই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি জাল রূপায়ন এবং এর সঙ্গে জাপানের ন্যাশনাল ডায়েটের বাস্তব কোনো ঘটনার সংযোগ নেই। এমনকি এক্সের সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলোতেও অলরেডি কমিউনিটি নোট ও এআই টেক্সট লেবেল যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ক্লিপগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।

কী বলছেন তথ্য যাচাইকারীরা

তথ্য যাচাইকারীরা জানিয়েছেন, জাপানের ডায়েট সেশনের সময় সদস্য ও কর্মীদের বসার জন্য অত্যন্ত কঠোর নিয়মাবলী ও আসন বিন্যাস মেনে চলা হয়। ভিডিওতে দৃশ্যমান দুই মহিলার কাউকেই জাপানের কোনো প্রকৃত জনপ্রতিনিধি বা আইনপ্রণেতা কিংবা সরকারি কর্মী হিসেবে সনাক্ত করা যায়নি। তাছাড়া, ভিডিওটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে এআই ভিডিওর কিছু সাধারণ ত্রুটি স্পষ্ট ধরা পড়ে। যেমন নারীর শরীরের গঠন, জামাকাপড়ের অনুপাত এবং গতিবিধিতে কৃত্রিমতার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। মূল পার্লামেন্ট সম্প্রচারের ওপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই কৃত্রিম চরিত্রগুলোকে জোড়া দেওয়া হয়েছে।

বিভ্রান্তি সৃষ্টির নতুন কৌশল

সাম্প্রতিক সময়ে কোনো গাম্ভীর্যপূর্ণ বা আনুষ্ঠানিক পরিবেশের বাস্তব ফুটেজের ওপর এআই দিয়ে কৃত্রিম চরিত্র বসিয়ে অদ্ভুত বা হাস্যরসাত্মক দৃশ্য তৈরির এক নতুন প্রবণতা শুরু হয়েছে। প্রথম দর্শনে সরকারি সম্প্রচারের মতো মনে হওয়ায় এই ধরণের ভিডিওগুলি খুব দ্রুত বিভ্রান্তি ছড়ায়। জাপানের পার্লামেন্টের এই ঘটনার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে। বাস্তবে ওই ভিডিওতে থাকা কোনো নারীই জাপানের সরকার বা পার্লামেন্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো বাস্তব ব্যক্তি নন।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement