মাত্র কয়েক দিনে ১২ লাখ টাকা আয়! পুনের সিএ-র চমকপ্রদ রোজগারের গল্প ভাইরাল

আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই কর্মব্যস্ততা বাড়ছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (CA)।

Representational image (Photo credit- file image)

আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই কর্মব্যস্ততা বাড়ছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (CA)। ঠিক এই ট্যাক্স ফাইলিং মরশুমেই এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অবিশ্বাস্য উপার্জনের গল্প ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে 'পরিতোষ শর্মা' নামে এক ব্যবহারকারীর পোস্ট ঘিরে আপাতত তুঙ্গে জল্পনা। তাঁর দাবি, পুনের এক সিএ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ক্লায়েন্টের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে আয় করেছেন ১২ লক্ষ টাকা!

প্রতি ক্লায়েন্ট পিছু ৩,০০০ টাকা ফি!

পরিতোষ শর্মা জানিয়েছেন, ওই সিএ তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মাত্র তিন বছর আগে নিজের স্বাধীন প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন তিনি। দেখতে দেখতে আজ তাঁর ক্লায়েন্ট সংখ্যা প্রায় ৪০০।

পোস্টে পরিতোষ লেখেন:

"পুনেতে আমার এক সিএ বন্ধু রয়েছে, যিনি চেনা পরিচিতদের আইটিআর ফাইলিংয়ে সাহায্য করেন। তিন বছর আগে কাজ শুরু করার পর আজ তাঁর ঝুলিতে প্রায় ৪০০ ক্লায়েন্ট।"

তিনি আরও যোগ করেন,"আইটিআর মরশুমে তিনি ক্লায়েন্ট পিছু ৩,০০০ টাকা করে ফি নেন। অর্থাৎ এই কয়েক দিনেই তাঁর আয় প্রায় ১২ লাখ টাকা! কাজের পাহাড় সামলাতে তিনি দু'জন ইন্টার্নও হায়ার করেছেন।"

শুধু আইটিআর নয়, ব্যবসা বেড়েছে অন্যান্য ক্ষেত্রেও

পরিতোষের মতে, নেটওয়ার্ক বড় হওয়ার ফলে শুধু আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়াতেই আটকে থাকেনি তাঁর বন্ধুর কাজ। ক্লায়েন্টরা এখন বিজনেস রেজিস্ট্রেশন, অ্যাকাউন্টিং এবং অন্যান্য আইনি কমপ্লায়েন্সের কাজের জন্যও তাঁর কাছেই আসছেন।

"বর্তমানে ফুল-টাইম চাকরির চেয়েও এই স্বাধীন প্র্যাকটিস থেকে তাঁর আয় অনেক বেশি। সঠিক স্কিল, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভালো নেটওয়ার্ক থাকলে কত টাকা আয় করা সম্ভব, তা ভেবেই অবাক হতে হয়,"* জানান পরিতোষ।

নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হতেই এক্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নেটিজেনদের একাংশ এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানালেও, অনেকেই প্র্যাকটিক্যাল সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

প্রশংসার সুর: এক ব্যবহারকারী লিখেছেন,"তিনি এই জ্ঞান উপার্জন করেছেন, কিনে আনেননি। পরিশ্রমের যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন।"অন্য এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, "আজকাল তো যেকোনো সিএ অন্তত ১০,০০০ টাকা দাবি করে বসে।"

বাস্তবের কঠিন চিত্র:অন্যদিকে, এক নেটিজেন অন্য সুর টেনে লিখেছেন,"৪০০ জন ক্লায়েন্টের মধ্যে অনেকেই সময়মতো টাকা দেন না। কারও কাছ থেকে টাকা তুলতে বছর কেটে যায়। খাতা-কলমের হিসেবে এই সংখ্যাগুলো দেখতেই শুধু ভালো লাগে।"

মানসিক চাপের প্রশ্ন: আবার কাজের চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে একজন মন্তব্য করেছেন, "২৪ ঘণ্টা ফোন অ্যাটেন্ড করতে হয়। ক্লায়েন্টরা ইন্টার্নের সঙ্গে কথা বলতে চায় না, সিএ-র সাথেই কথা বলতে জেদ ধরে। তাই কাজের নির্দিষ্ট সময় থাকা চাকরি অনেক ভালো, যদি না এই পেশার প্রতি আলাদা ভালোবাসা থাকে।"

সব মিলিয়ে, আইটিআর ফাইলিংয়ের এই ব্যস্ত মরশুমে স্বাধীন প্র্যাকটিসের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ, উভয় দিক নিয়েই এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement