Genital Theft: যৌনাঙ্গ চুরির গুজবে গণপিটুনিতে ৮০ জনকে হত্যা, দেখুন ভিডিও
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন গুজব কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র হিংস্রতা। ‘যৌনাঙ্গ চুরি’ বা ‘যৌনাঙ্গ গায়েব হয়ে যাওয়ার’ ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
Genital Theft: আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন গুজব কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র হিংস্রতা। ‘যৌনাঙ্গ চুরি’ বা ‘যৌনাঙ্গ গায়েব হয়ে যাওয়ার’ ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কঙ্গো, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, জাম্বিয়া, মালাউই ও কেনিয়াসহ আফ্রিকার অন্তত আটটি দেশে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। টিকটক, ফেসবুক পোস্ট, রিলস ও শর্টসের মাধ্যমে এই প্যানিক বা আতঙ্ক এক দেশ থেকে অন্য দেশে দ্রুত ছড়িয়ে দেয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা।
কী এই ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজব?
এই ভিত্তিহীন দাবির মূল কথা হলো, অন্য কোনো ব্যক্তির স্পর্শে আসলেই পুরুষের জননাঙ্গ ছোট হয়ে যায় কিংবা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়! স্থানীয় কুসংস্কার ও গুণটোনাসংক্রান্ত পুরনো বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এই গুজব উসকে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাস্তবে কোনো অঙ্গ গায়েব হওয়ার কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ মেলেনি। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘কোড়ো সিন্ড্রোম’ (Koro Syndrome) বলে আখ্যা দিয়েছেন। এটি এমন একটি মানসিক ব্যাধি, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তার প্রজনন অঙ্গ সংকুচিত হচ্ছে বা দেহের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে।
দেখুন ভিডিও
সবচেয়ে বেশি হিংসা মোজাম্বিকে
গুজবের কারণে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মোজাম্বিকে। দেশটির পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, মাত্র ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী, সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো জনসম্মুখে এই গুজবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিউজ পাওয়ার আসক্তিতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা
সাম্প্রতিক সময়ে কেনিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল মোম্বাসা ও কোয়ালেতে গণপিটুনিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মোম্বাসার কাউন্টি কমিশনার মোহাম্মদ নূর জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল লাইক ও ভিউ পাওয়ার আশায় কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বানিয়ে বানিয়ে ভিডিও পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে তুলেছে। কেনিয়া পুলিশ ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও সাজা প্রদান করেছে।
গুজবের জেরে গণপিটুনি
একইভাবে মালাউইতে এই গুজবের জেরে গণপিটুনিতে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তানজানিয়াতেও নির্দোষ পথচারীদের ওপর হামলার একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যেকোনো বিভ্রান্তিকর বা স্পর্শকাতর তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও তথ্য-যাচাইকারী সংস্থাগুলো।