মানসিক টান থেকে আইনি বিয়ে করে এক ছাদের তলায় অভিনব উপায়ে জীবন কাটাচ্ছেন দুই বান্ধবী রেনি ও এপ্রিল
বিয়ের মূল ভিত্তিই প্রেম বা রোমান্টিক সম্পর্ক, সমাজ সংস্কারের এই আবহমান ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন দুই অভিন্নহৃদয় বান্ধবী রেনি ওয়াং (Renee Wong) এবং এপ্রিল লি (April Lee)।
Two Best Friends Get Married in Platonic Union: বিয়ের মূল ভিত্তিই প্রেম বা রোমান্টিক সম্পর্ক, সমাজ সংস্কারের এই আবহমান ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন দুই অভিন্নহৃদয় বান্ধবী রেনি ওয়াং (Renee Wong) এবং এপ্রিল লি (April Lee)। রোমান্টিক ভালোবাসার সম্পর্কের বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র গভীর মানসিক টান এবং প্ল্যাটোনিক (Platonic) বা নিষ্কাম বন্ধুত্বের ওপর ভর করে তারা সম্প্রতি আইনি বিয়ে সেরেছেন।
১২ বছর বয়স থেকে একে অপরকে চেনেন রেনি ও এপ্রিল। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে দুজনেরই বয়স এখন ২৯ বছর। ইতিমধ্যেই তারা সফলভাবে পার করে ফেলেছেন তাদের বিয়ের দুটি বছর। কোনও প্রথাগত প্রেমময় দাম্পত্য নয়, বরং একে অপরের জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা ও সঙ্গী হতেই আইনিভাবে এই যৌথ পথচলা শুরু করেছিলেন তারা।
একই ছাদ, যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, তবে নিজস্ব স্পেস
কাগজে-কলমে বিবাহিত হলেও রেনি ও এপ্রিল বেডরুম শেয়ার করেন না। দুজনের মধ্যে নেই কোনও রোমান্টিক বা শারীরিক সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তব জীবনের সমস্ত দায়িত্ব তারা সামলান সাধারণ দম্পতিদের মতোই। একই বাড়িতে থাকেন, যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের সমস্ত পরিকল্পনা একসঙ্গেই নেন।
দেখুন ভিডিও
বিয়ের এই অনন্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রেনি বলেন, "যে মানুষটি এখনও আমার জীবনে আসেনি, তার জন্য কেন জীবনের মূল সঙ্গীর স্থানটি খালি রেখে দেব? অথচ যে মানুষটি বছরের পর বছর আমার পাশে দাঁড়িয়ে সব দায়িত্ব পালন করেছে, সে তো আমার সামনেই আছে।"
দুজনেই জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতেও নিজেদের ব্যক্তিগত রোমান্টিক সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত। তবে আপাতত তারা নিজেদের জীবন নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। রেনির কথায়, "আমরা কোনো শূন্যতা মেটাতে এই কাজ করিনি, আমরা একা নই। কোনো সাধারণ ডেটে গিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে এপ্রিলের সঙ্গে ফোনে কথা বলা বা সময় কাটানো আমার কাছে অনেক বেশি আনন্দের।"
কী এই প্ল্যাটোনিক পার্টনারশিপ?
রেনি ও এপ্রিলের এই ঘটনাটি বর্তমানে মনস্তত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ রোমান্টিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে একে অপরকে আর্থিক নিরাপত্তা, আইনি সুবিধা এবং মানসিক স্থায়িত্ব দেওয়াই হলো এই প্ল্যাটোনিক লাইফ পার্টনারশিপের মূল লক্ষ্য।
সামাজিক প্রথা ও প্রচলিত বিয়ের সংজ্ঞা ভাঙার এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে, জীবনের সেরা সঙ্গী শুধু প্রেমিক বা স্বামীই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই; একজন অনুগত ও আজীবনের বন্ধুও হতে পারেন জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।