Manasa Puja 2026: দেবী মনসার পুজো করবেন কীভাবে, যেগুলি একেবারেই করবেন না

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগের এক অনন্য প্রতীক হলো দেবী মনসার আরাধনা। রাত পোহালেই ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হবে দেবীর পূজা। বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনে বর্ষাকালে সাপের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়া, সন্তান লাভ এবং পরিবারের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনায় দেবী মনসাকে 'নাগদেবী' হিসেবে ভক্তিভরে পূজা করা হয়।

প্রতীকী ছবি (Photo Credits: Pixabay)

Manasa Puja 2026: বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগের এক অনন্য প্রতীক হলো দেবী মনসার আরাধনা। রাত পোহালেই ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হবে দেবীর পূজা। বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনে বর্ষাকালে সাপের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়া, সন্তান লাভ এবং পরিবারের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনায় দেবী মনসাকে 'নাগদেবী' হিসেবে ভক্তিভরে পূজা করা হয়।

কোথা থেকে এলেন দেবী মনসা

সনাতন ধর্মগ্রন্থে দেবী মনসার উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। কোনো কোনো পুরাণ অনুযায়ী, তিনি মহর্ষি কাশ্যপ ও কদ্রুর কন্যা; আবার লোককথায় তিনি দেবাদিদেব মহাদেবের মানসকন্যা হিসেবে সমাদৃত। পরবর্তীতে মুনি জরৎকারুর সাথে তাঁর বিবাহ হয়। বর্ষাকালে চারপাশে জলাশয় ও ঝোপঝাড়ে সাপের উপদ্রব বাড়ে বলেই এই সময়ে দেবী মনসার আরাধনার প্রচলন সবচেয়ে বেশি।

অষ্টনাগ ও চাঁদ সওদাগরের উপাখ্যান

মনসা পূজার আচারে বিশেষ গুরুত্ব পায় 'অষ্টনাগ' বা আটটি প্রধান সাপের আবাহন, শেষনাগ, বাসুকি, তক্ষক, কর্কটক, পদ্মনাগ, মহাপদ্ম, শঙ্খপাল এবং ধৃতরাষ্ট্র।

দেবী মনসার মহিমা তুলে ধরতে বাংলায় চাঁদ সওদাগর ও সতী বেহুলার কাহিনি সর্বাধিক পরিচিত। প্রথমে চাঁদ সওদাগর দেবী মনসার দেবীত্ব অস্বীকার করায় তাঁর সংসারে নেমে এসেছিল তীব্র বিপর্যয়। পরবর্তীতে বেহুলার অদম্য নিষ্ঠা ও সতীত্বের জোরেই দেবীর কৃপা মেলে এবং মর্ত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় মনসা পূজার ধারা।

পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ

প্রতিমা ও প্রতিকৃতি: দেবী মনসার প্রতিমা বা পটে আঁকা ছবি এবং সাপের প্রতিকৃতি।

নৈবেদ্য ও পোশাক: গঙ্গাজল, চন্দন, সিঁদুর, ধূপ-দীপ, জবা, বেলি ও শিউলি ফুল এবং দেবীকে পরানোর জন্য লাল ও সাদা বস্ত্র।

ভোগ: কাঁচা দুধ, মধু, কাঁঠালি কলা, আম, নারকেলসহ নানা মরশুমি ফলমূল।

পূজা পদ্ধতি ও সামাজিক তাৎপর্য

পূজাস্থল গঙ্গাজল দিয়ে পবিত্র করে দেবীকে স্থাপন করা হয়। ভক্তরা সাড়ম্বরে দুধ-কলা ও ফল-ফুল নিবেদন করে অঞ্জলি দেন। দেশের অনেক অঞ্চলে প্রতিমার পাশাপাশি জ্যান্ত সাপের আরাধনা করার রীতিও প্রচলিত রয়েছে। দিনশেষে পুষ্পাঞ্জলি, মন্ত্র জপ ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে মূল আচারের সমাপ্তি ঘটে। কেবল ধর্মীয় উপাসনাই নয়, পালাগান, বিষহরি কাব্য পাঠ ও সামাজিক মিলনের এক প্রাণবন্ত উৎসব হিসেবেই যুগ যুগ ধরে বাংলায় টিকে রয়েছে দেবী মনসার আরাধনা।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement