UP Tantrik Rapes Minor: ঝাড়ফুঁকের নামে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ, উত্তরপ্রদেশের বান্দায় গ্রেফতার ৫৫ বছরের তান্ত্রিক
অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের আড়ালে এক ভয়াবহ নৃশংসতার ঘটনা প্রকাশ্যে এল উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায়। চিকিৎসার আশায় এক তান্ত্রিকের কাছে যাওয়া ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল।
UP Tantrik Rapes Minor: অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের আড়ালে এক ভয়াবহ নৃশংসতার ঘটনা প্রকাশ্যে এল উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায়। চিকিৎসার আশায় এক তান্ত্রিকের কাছে যাওয়া ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ৫৫ বছরের এক তান্ত্রিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বান্দা জেলার বিশান্দা থানা এলাকার পাওয়ারি গ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তান্ত্রিকের নাম পরশুরাম যাদব। সে ইটরা মিলৌলি গ্রামের বাসিন্দা। গত কয়েকদিন আগে বান্দার নারাইনি এলাকার এক অসহায় মহিলা তাঁর অসুস্থ কিশোরী কন্যাকে নিয়ে ওই তান্ত্রিকের আস্তানায় গিয়েছিলেন। পরিবারের বিশ্বাস ছিল, তান্ত্রিকের ঝাড়ফুঁক বা অলৌকিক উপায়ে মেয়েটির শারীরিক অসুস্থতা চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের চরম সুযোগ নিয়েই তান্ত্রিক কিশোরীকে একা পেয়ে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে।
বাড়ি ফিরে আসার পর নির্যাতিতা সব ফাঁস করে
বাড়ি ফিরে আসার পর নির্যাতিতা নাবালিকা কাঁদতে কাঁদতে তার মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। এই লোমহর্ষক তথ্য শোনার পর হতবাক হয়ে যায় পরিবারটি। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তারা কালবিলম্ব না করে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্থানীয় বিশান্দা থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
পকসো আইনে মামলা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়। বর্বরেরু অঞ্চলের সার্কেল অফিসার (সিও) কৃষ্ণকান্ত ত্রিপাঠী সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গে বিশান্দা থানায় পকসো (POCSO) আইন এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক মামলা রুজু করা হয়েছে। এরপর পুলিশের বিশেষ দল অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় পাওয়ারি গ্রামের নিকটবর্তী এলাকা থেকে পরশুরাম যাদবকে গ্রেফতার করে।
কী জানায় পুলিশ
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্যাতিতা নাবালিকাকে ইতোমধ্যে বিস্তারিত শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আদালতের সামনে নাবালিকার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত তান্ত্রিককে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট গঠনের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।