স্বাধীন ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণ দেয়নি, কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেন কৃষক

সরকারি প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ঋণ দিল না ব্যাংক। তাই কিডনি বিক্রি করে দেনা শোধ করতে উদ্যত হলেন এক কৃষক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার ছত্তর সালি গ্রামে। ওই কৃষকের নাম রাম কুমার। বহুদিন ধরে ঋণের জন্য তিনি ব্যাংকে ছোটাছুটি করলেও কোনও লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত কিডনি বিক্রি করে নিজের প্রয়োজন মেটানোর কাজে ব্রতী হয়েছেন। এজন্য রীতিমতো বিজ্ঞাপনও দিয়েছেন তিনি।

প্রতীকী ছবি(Photo Credit: Pixabay)

সাহারানপুর, ২৩ আগস্ট: সরকারি প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ঋণ দিল না ব্যাংক। তাই কিডনি বিক্রি করে দেনা শোধ করতে উদ্যত হলেন এক কৃষক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার ছত্তর সালি গ্রামে। ওই কৃষকের নাম রাম কুমার। বহুদিন ধরে ঋণের জন্য তিনি ব্যাংকে ছোটাছুটি করলেও কোনও লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত কিডনি বিক্রি করে নিজের প্রয়োজন মেটানোর কাজে ব্রতী হয়েছেন। এজন্য রীতিমতো বিজ্ঞাপনও দিয়েছেন তিনি। পোস্টারের মাধ্যমে চলছে বিজ্ঞাপন, কোনও সহৃদয় ব্যক্তি যদি তাঁর কিডনি কিনে নেন তাহলে রাম কুমারের বিশেষ উপকার হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে।

এ প্রসঙ্গে সাহারানপুর ডিভিশনাল কমিশনার সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘এই সম্পর্কে কিছুই জানতাম না আমি। সংবাদমাধ্যম সূত্রেই পুরো বিষয়টা জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারপর বলতে পারব রাম কুমারকে ব্যাংক কেন ঋণ দেয়নি।’ জানা গিয়েছে, ছত্তর সালি গ্রামের ৩০ বছরের যুবক রাম কুমার চাষাবাদের পাশাপাশি পশুপালনেও আগ্রহী ছিলেন। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার অধীনে ডেয়ারি ফার্ম সংক্রান্ত একটি কোর্সও করেন। কিন্তু, প্রশিক্ষণ শেষের পরে ডেয়ারি ফার্ম খুলতে গিয়েই সমস্যায় পড়েন তিনি। প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য এলাকার সমস্ত সরকারি ব্যাংকে আবেদন জমা করলেও কেউ পাত্তা দেয়নি। সবাইকে প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার অধীনে নেওয়া প্রশিক্ষণের শংসাপত্র দেখালেও লাভ হয়নি। এদিকে পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য ছোটখাটো একটি ডেয়ারি ফার্মও খুলে ফেলেছিলেন তিনি। কয়েকটা গরু কিনেছিলেন। আর তাদের রাখার জন্য বানিয়ে ছিলেন একটি ঘর। আরও পড়ুন-সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ, ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পি চিদম্বরমকে গ্রেপ্তার করেত পারবে না ইডি

এজন্য় আত্মীয় পরিজনের থেকে টাকাও ধার নিয়েছিলেন। ব্যাংর ঋণ দিচ্ছে না অথচ ধার শোধের সময় হয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত সম্মান বাঁচাতে নিজের কিডনি বিক্রির চেষ্টা শুরু করেন তিনি। কিডনি বেচে যে টাকা তাঁর হাতে আসবে তাদিয়েই ধার শোধ করবেন, এই মনস্থ করেন। কিন্তু, কীভাবে বিক্রি করবেন তার কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত পোস্টার ছাপিয়ে স্থানীয় এলাকায় লাগিয়ে কিডনি বিক্রির চেষ্টা করলেন তিনি।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement