Kanpur Marriage Fraud Case: ইনস্টায় প্রেম থেকে তাইল্যান্ডে বিয়ে, তারপর ৬০ লাখের প্রতারণা! কানপুরে এসে স্বামীর আসল রূপ জানলেন তরুণী
সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ায় পরিচয়ের পর ভার্চুয়াল প্রেম, তারপর সুদূর থাইল্যান্ডে গিয়ে সাতপাকে বাঁধা। তবে সেই ভালোবাসার আড়ালে যে লুকিয়ে ছিল এক জঘন্য প্রতারণার ছক, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাইল্যান্ডের তরুণী আপসন। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী ইরফানের প্রেমের ফাঁদে পড়ে আজ তিনি নিঃস্ব।
Kanpur Marriage Fraud Case: সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ায় পরিচয়ের পর ভার্চুয়াল প্রেম, তারপর সুদূর থাইল্যান্ডে গিয়ে সাতপাকে বাঁধা। তবে সেই ভালোবাসার আড়ালে যে লুকিয়ে ছিল এক জঘন্য প্রতারণার ছক, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাইল্যান্ডের তরুণী আপসন। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী ইরফানের প্রেমের ফাঁদে পড়ে আজ তিনি নিঃস্ব। প্রায় ছয় বছর আগে ইনস্টাগ্রামে আলাপ হওয়া এই দম্পতির চার বছর চুটিয়ে প্রেমের পর দুই বছর আগে তাইল্যান্ডেই বিয়ে হয়। ব্যবসার অজুহাতে ঘন ঘন তাইল্যান্ডে যাতায়াত ছিল ইরফানের। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করে আসল চেহারা। গত দুই বছরে ব্যবসা ও আর্থিক সমস্যার কথা বলে আপসনের কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ইরফান। নিজের কাছে অত টাকা না থাকায় তাইল্যান্ডের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন সেই তরুণী।
ঠিক কী ঘটেছিল
টাকা নেওয়ার পর থেকেই সম্পর্কের গতিপথ পাল্টাতে শুরু করে। কানপুরের ওই ব্যবসায়ী আর টাকা ফেরত দিতে চাইছিলেন না, বরং আপসনের আচরণে সন্দেহ বাড়ায় টাকা ফেরতের জোরালো দাবি উঠতেই সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করে সে। টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে ইরফান শর্ত চাপায়, আপসনকে ধর্মান্তরিত হতে হবে এবং তাইল্যান্ড ছেড়ে ভারতের কানপুরে এসে তার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। এতে আপসন রাজিশ না হলে আচমকাই তাইল্যান্ড ছেড়ে পালিয়ে আসে ইরফান এবং মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে যোগাযোগের সমস্ত পথ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্ত্রীর ফোন ধরাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় সে। কোনো উপায় না দেখে এবং মাথার ওপর ব্যাংকের ঋণের বিরাট বোঝা চেপে বসায়, স্বামীকে খুঁজতে সোজা তাইল্যান্ড থেকে কানপুরে এসে হাজির হন আপসন।
দেখুন খবরটি
কীভাবে সত্যিটা সামনে আসে
কানপুরে পৌঁছানোর পর পুলিশের দ্বারস্থ হতেই তাই তরুণীর সামনে উন্মোচিত হয় চরম তিক্ত সত্য। অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, ভারতে আগে থেকেই ১৪ বছরের বিবাহিত জীবন রয়েছে ইরফানের এবং ঘরে স্ত্রী ও সন্তানরাও রয়েছে। প্রথম বিয়ের কথা সম্পূর্ণ লুকিয়েই তাইল্যান্ডে দ্বিতীয় বিয়ে এবং জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছিল এই ব্যবসায়ী। প্রতারণার চরম সীমানা দেখে এই ভুয়ো সম্পর্কের ইতি টেনেছেন ওই বিদেশি তরুণী। এখন তার একমাত্র দাবি, নিজের কষ্টের ৬০ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া, যাতে তিনি ব্যাংকের ঋণ শোধ করে নিজের দেশে ফিরে যেতে পারেন। আপসনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কানপুর পুলিশ তৎক্ষণাৎ মামলা রুজু করে প্রতারক ইরফানকে গ্রেফতার করেছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।