School Ghost Scare: মাঝেমাঝেই বাজছে গা ছমছমে ঘুঙুরের আওয়াজ, ভূতের ভয়ে মহারাষ্ট্রের আশ্রম ছাড়ল ৬০৮ শিক্ষার্থী
মাঝেমাঝেই বেজে উঠে গা ছমছমে ঘুঙুর। ঠিক যেন, ভুলভুলাইয়া সিনেমার... মেরে ঢোলনা না.. গানের মত। ছমছম করে বাজছে ঘুঙুর। তাতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে, ভয় লাগছে। অশরীরীর উপস্থিতি, গভীর রাতে ঘুঙুরের রহস্যময় আওয়াজ এবং কয়েক জন শিক্ষার্থীর অদ্ভুত আচরণের কারণে ছড়ালো তীব্র আতঙ্ক।
Amravati Ashram School Ghost Scare: মাঝেমাঝেই বেজে উঠে গা ছমছমে ঘুঙুর। ঠিক যেন, ভুলভুলাইয়া সিনেমার... মেরে ঢোলনা না.. গানের মত। ছমছম করে বাজছে ঘুঙুর। তাতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে, ভয় লাগছে। অশরীরীর উপস্থিতি, গভীর রাতে ঘুঙুরের রহস্যময় আওয়াজ এবং কয়েক জন শিক্ষার্থীর অদ্ভুত আচরণের কারণে ছড়ালো তীব্র আতঙ্ক। আর এই ভূতের ভয়েই হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি পালিয়ে গেল ৬০০-রও বেশি শিক্ষার্থী! মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার এক সরকারি উপজাতীয় আশ্রম স্কুলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে মেলাঘাট অঞ্চলের চিখালদারা তালুকের ডোমা গ্রামের 'গভর্নমেন্ট ট্রাইবাল আশ্রম স্কুল'-এ। এই আবাসিক বিদ্যালয়টিতে মূলত ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে মোট ৮১০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তবে গত কয়েক দিনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০৮ জন শিক্ষার্থীই হোস্টেল ছেড়ে নিজেদের বাড়ি ফিরে গেছে।
আতঙ্কের সূত্রপাত কীভাবে?
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ শে জুলাই প্রথম এই আতঙ্কের সূত্রপাত হয়। সেদিন স্কুলের চার জন ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। তাঁদের একাধারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদতে ও হাসতে দেখা যায়। এর পরেই গুঞ্জন ছড়ায় যে শিক্ষার্থীরা হয়তো অশরীরী আত্মার কবলে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন রাতে অনেকে ঘুঙুরের শব্দ ও বিবিধ রহস্যময় আওয়াজ শুনতে পাওয়ার দাবি করে।
এই কথা ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসে নানা গুজবের জন্ম হয়। কেউ কেউ দাবি করতে শুরু করেন যে, স্কুল প্রাঙ্গণের একটি মহুয়া গাছ কেটে ফেলার কারণেই এই অভিশাপ নেমে এসেছে। আবার কেউ ড্রেন নির্মাণের কাজের কারণে কাছের একটি মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হওয়া বা সম্প্রতি এক স্থানীয় আদিবাসী যুবকের মৃত্যুকে এর পিছনে দায়ী করতে থাকেন।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ওই ছাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং মানসিক চিকিৎসকদের (Psychiatrists) একটি দল রোগীদের পরীক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এখানে কোনো অলৌকিক বা ভৌতিক বিষয়ের অস্তিত্ব নেই। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভয় এবং মাস হিস্টিরিয়া (Mass Hysteria)-র কারণেই শিক্ষার্থীরা এই ধরণের আচরণ করেছে। অন্ধবিশ্বাস দূর করতে এবং শিক্ষার্থীদের মনে বিজ্ঞানচেতনা জাগাতে তড়িঘড়ি এগিয়ে আসে ‘মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি’। এই সংগঠনের সদস্যরা স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং শুরু করেছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
শিক্ষার্থীদের মনে ভরসা ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। অমরাবতীর সাংসদ বলবন্ত ওয়াংখেড়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার এবং ভীতি কাটিয়ে পুনরায় ক্লাসে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের যৌথ কাউন্সেলিং এবং সচেতনতামূলক প্রচারের ফলে ইতিমধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী ভয় কাটিয়ে আবার হোস্টেলে ফিরতে শুরু করেছে।