অনিল আম্বানির ২০৩২ কোটি টাকার সম্পত্তি কেন বাজেয়াপ্ত করল ইডি, জানুন পুরো ঘটনা
অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের (RPL) ২০৩২.৮১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন বা ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Reliance Power FEMA Case: অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের (RPL) ২০৩২.৮১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন বা ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্স পাওয়ারের ব্যাংক ব্যালেন্স এবং সাাসন পাওয়ার লিমিটেডে (Sasan Power Limited) থাকা তাদের শেয়ার। সংস্থার মতে, বেআইনিভাবে বিদেশে গচ্ছিত রাখা বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ মূল্যমান বিবেচনা করেই এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক লেনদেন
এই ইডি পদক্ষেপের মূলে রয়েছে বিদেশে বিনিয়োগ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস (BVI)-এর বিভিন্ন শেল সংস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং মরিশাস হয়ে ঘুরপথে টাকা ভারতে ফেরত আনার গুরুতর অভিযোগ। বাজার নিয়ামক সংস্থা 'সেবি' (SEBI)-র একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু করে ইডি। রিলায়েন্স পাওয়ারের খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংস্থাটি বিদেশে বিনিয়োগ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও কেম্যান আইল্যান্ডসের সংস্থাসমূহকে প্রদত্ত অগ্রিম বাবদ মোট ২,১০১.৪৬ কোটি টাকা 'রাইট-অফ' (মকুব) ও প্রোভিশন হিসেবে দেখিয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের ৬ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ফেমা আইনের অধীনে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
'রাউন্ড-ট্রিপিং' ও জাল নথির অভিযোগ
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০০৬ সালে রিলায়েন্স ন্যাচারাল রিসোর্সেস লিমিটেড (RNRL) যা পরবর্তীতে রিলায়েন্স পাওয়ারের সঙ্গে একীভূত হয় ,ফরেন কারেন্সি কনভার্টিবল বন্ড (FCCB)-এর মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয় সিঙ্গাপুরে অবস্থিত তাদের শতভাগ মালিকানাধীন সাবসিডিিয়ারি সংস্থা ‘RNRL-S’-এ।
ইডির দাবি অনুযায়ী:
জেনেভা ব্যাংকে জমা ও ঋণ: RNRL-S এই অর্থ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘ডয়েচে ব্যাংক (সুইস) এসএ’-তে আমানত হিসেবে রাখে এবং এই জমা অর্থ জামানত (Collateral) হিসেবে ব্যবহার করে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের বেশ কিছু সংস্থাকে ঋণ পাইয়ে দেয়।
বেনামি নিয়ন্ত্রণ: ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের এই সংস্থাগুলি মূলতঃ অনিল আম্বানি গ্রুপের আড়ালে থাকা কিছু ‘ফ্রন্ট পার্সন’ বা বেনামি ব্যক্তি দ্বারা ভারত থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো।
মরিশাস হয়ে অর্থ ফেরত: ইডি আরও জানায়, ঋণের টাকা মরিশাসভিত্তিক বিভিন্ন বিদেশী সংস্থার মাধ্যমে ঘুরপথে ভারতে আনা হয় (Round-tripping) এবং অনিল আম্বানি গ্রুপ ও ভারতের বাইরের বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।
জাল নথি তৈরি: পরবর্তীতে BVI সংস্থাগুলি ডয়েচে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এই পুরো বেআইনি লেনদেন গোপন করতে পেছনের তারিখে (Backdated) ভুয়ো নথি তৈরি করে দেখানো হয় যে RNRL-S এবং রিলায়েন্স পাওয়ারের ইন্দোনেশিয়ার শাখাগুলি ওই BVI সংস্থাগুলিকে প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অগ্রিম টাকা দিয়েছিল।
৩৭এ ধারায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত
ফেমা (FEMA)-র ৩৭এ (Section 37A) ধারা অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অনিয়ম করে গচ্ছিত রাখা অর্থের সমপরিমাণ সম্পদ ভারতে বাজেয়াপ্ত করার এই আইনি ক্ষমতার বলেই রিলায়েন্স পাওয়ারের ২০৩২.৮১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। ঘটনার পর আম্বানি শিবিরের বক্তব্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে বিশেষজ্ঞ মহল।