RBI Monetary Policy October 2026: রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আরও দামি হতে চলেছে বাড়ি-গাড়ির লোন, জানুন মুদ্রানীতির সব আপডেট
আমজনতার পকেটে টান ফেলে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নীতিগত সুদের হার বা রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ শেষ হওয়া তিন দিনব্যাপী মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা।
RBI Monetary Policy October 2026: আমজনতার পকেটে টান ফেলে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নীতিগত সুদের হার বা রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ শেষ হওয়া তিন দিনব্যাপী মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা। এর ফলে দেশের নতুন রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫০ শতাংশে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথমবার সুদের হার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, যার ফলে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল।
৬ সদস্যের মনিটারি পলিসি কমিটির সিদ্ধান্ত
আর্থিক বর্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি পর্যালোচনা বৈঠকে ৬ সদস্যের মনিটারি পলিসি কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে (৬:০) রেপো রেট বাড়ানোর পক্ষে সায় দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাঙ্ক তার মুদ্রানীতির অবস্থান “Neutral” থেকে বদলে “Calibrated Tightening” বা নিয়ন্ত্রিত কড়াকড়ির পথে হেঁটেছে, যা কমিটির ৪:২ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদিত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) রেট বাড়িয়ে ৫.২৫ শতাংশ এবং মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF) ও ব্যাঙ্ক রেট উভয়ই বাড়িয়ে ৫.৭৫ শতাংশ করা হয়েছে।
দেখুন ভিডিও
কী কারণে এমন কড়া পদক্ষেপ
মূলত দেশে ক্রমাগত বাড়তে থাকা খুচরা মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানতেই আরবিআই-এর এই কড়া পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা খুচরা মূল্যবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা টানা তিন মাস ধরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত ৪ শতাংশের মাঝারি মেয়াদের লক্ষ্যমাত্রার উপরে অবস্থান করছে। এর নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান কেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং এল নিনোর প্রভাবে দুর্বল বর্ষায় খাদ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি।
দেশে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকলেও...
তবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক ভিত অত্যন্ত মজবুত অবস্থায় রয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের (FY 2026-27) প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারত ৭.৮ শতাংশের শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মূল্যবৃদ্ধির পরিভাষা এখন আর নরম বা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নেই। তাই এই মুহূর্তে সুদের হার কমানোর (Rate Cut) সমস্ত পথ বন্ধ। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী হয় সুদের হার আরও বাড়বে, না হয় বর্তমান হার বজায় থাকবে। এই কড়াকড়ির মেয়াদ কতদিন চলবে তা নির্ভর করবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির ভারসাম্যের ওপর।
বিশ্ববাজারের ট্রেন্ড কী বলছে
বিশ্ববাজারের ট্রেন্ড বজায় রেখে একাধিক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতো ভারতও নীতি কড়াকড়ির এই একই পথে হেঁটেছে, যার পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিলেন দেশের অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের বাজেটে। রেপো রেট বাড়ায় ব্যাঙ্কগুলিও ঋণের সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে, যার ফলে ফ্লোটিং রেটে থাকা হোম লোন, কার লোন বা পার্সোনাল লোনের ইএমআই (EMI) আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। আরবিআই-এর প্রধান লক্ষ্য হলো প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রেখে দ্রুত মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা।