Buddhadeb Bhattacharya Death Anniversary: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকী, মুজফফর আহমেদ ভবনে স্মরণ সভার আয়োজন

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে বাংলার মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন।

Buddhadeb Bhattacharya (Photo Credit: X)

নয়াদিল্লি: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharya) আজ প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকী। সিপিআই(এম) রাজ্য সদর দপ্তর মুজফফর আহমেদ ভবনে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর স্মৃতিতে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আজ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ এবং পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম মুখ্যমন্ত্রী।  তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা ছিল আদর্শ, সংগ্রাম, সংস্কার ও বিতর্কের এক অনন্য সমন্বয়।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ১৯৪৪ সালের ১ মার্চ উত্তর কলকাতার এক বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকের পর তিনি দমদম আদর্শ বিদ্যামন্দিরে দুই বছর শিক্ষকতা করেন।

১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি সিপিআই(এম)-এর সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৮ সালে গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের (ডিওয়াইএফআই) প্রথম রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য আন্দোলন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি প্রমোদ দাশগুপ্তের নির্দেশে পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হন এবং জেলায় জেলায় যুব ও দলীয় সংগঠন গড়ে তুলতে কাজ করেন। আরও পড়ুন: Benjamin Netanyahu: ভারতের ওপর শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা, ‘বন্ধু’ ইজরায়েল কার পাশে? গভীরতা মাপতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ জেপি’র

২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জ্যোতি বসুর উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন। তাঁর শাসনাকাল বাংলায় শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রচেষ্টার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বুদ্ধদেব রাজ্যে বেকারত্বের সমস্যা মোকাবিলা করতে শিল্পায়নের উপর জোর দেন। তিনি সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানা, শালবনিতে ইস্পাত কারখানা এবং নন্দীগ্রামে ক্যামিকাল হাব স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিল্পবিপ্লব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পূর্বশর্ত। তিনি দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে শিল্প সম্মেলন ও বণিক মহলের সভায় অংশ নেন, যার ফলে তিনি ‘ব্র্যান্ড বুদ্ধ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি বুদ্ধদেব সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। তিনি ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র, ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলন, লিটল ম্যাগাজিন ও নাট্যচর্চার সমর্থক ছিলেন। তিনি ‘চেনা ফুলের গন্ধ’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থের অনুবাদ করেন এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ধ্রুপদী সংস্কৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল সুপরিচিত।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে বাংলার রাজনীতি একজন দূরদর্শী, সৎ ও সংস্কৃতিমনস্ক নেতাকে হারিয়েছে, যিনি তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে বাংলার মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন।

(Social media brings you the latest breaking news, viral news from the world of social media including Twitter, Instagram and YouTube. The above post is embedded directly from the user's social media account. This body of content has not been edited or may not be edited by Latestly staff. Opinions appearing on social media posts and the facts do not reflect the opinions of Latestly, and Latestly assumes no responsibility for the same.)

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement