Puri's connection with this Rath of Bengal: এক সময় এখানকার রেশমের দড়ি পুরি পৌঁছালে তবেই পুরী রথযাত্রা শুরু হতো। জেনে নিন সেই ঐতিহাসিক কাহিনী

পুরীর রথযাত্রায় যে পূর্ণ অর্জন করা যায় কুলীন গ্রামে সে একই পূর্ণ অর্জন করা যায় । পূর্ব বর্ধমানের কুলীন গ্রামের পট্টডোরী পুরী পৌঁছালে তবেই পুরীর রথযাত্রা শুরু হতো।


রথকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম কাহিনী ছড়িয়ে রয়েছে। সেই সমস্ত কাহিনীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। যেমন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কুলীন গ্রামের রথের কাহিনী। পুরীর জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রার সঙ্গে এই গ্রামের একটি সম্পর্ক রয়েছে। কথিত আছে, পুরীর রথযাত্রায় যে পূর্ণ অর্জন করা যায় কুলীন গ্রামে সে একই পূর্ণ অর্জন করা যায় । পূর্ব বর্ধমানের কুলীন গ্রামের পট্টডোরী পুরী পৌঁছালে তবেই পুরীর রথযাত্রা শুরু হতো। যদিও সেই প্রাচীন প্রথা আজ চালু না থাকলেও ঐতিহাসিক গুরুত্বে এবং ধর্মীয় মর্যাদায় কুলীনগ্রামে শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাব ধন্য রথযাত্রা আজও স্বমর্যাদায় পালন করা হয়।

জানা যায়, প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে রথযাত্রা চলা কালীন কুলীন গ্রামে এসে ছিলেন শ্রী চৈতন্যদেব। সেই সময় তিনি লক্ষ্য করেন রথে উপবিষ্ট জগন্নাথ, বলরাম, ও সুভদ্রাকে নরম রেশম দিয়ে নানা রঙের পট্রডোরী দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি মনে করেন রথযাত্রার সময় পুরীর জগন্নাথ দেবকে খুব শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা হয় এতে জগন্নাথ দেবের ভীষণ কষ্ট হয়। সেই সময় তিনি কুলীন গ্রামের বিখ্যাত 'শ্রীকৃষ্ণ বিজয়' কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসুর নাতি রামানন্দ বসুকে একটি দায়িত্ব দেন। বলেন, এই রেশম পট্রডোরী পুরীর রথযাত্রার আগে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার। এই পরিবার সেটা পৌঁছেও দিতেন। এই কাহিনী জয়ানন্দের 'চৈতন্য মঙ্গল' কাব্যে উল্লেখ আছে। আরো জানা যায়, কুলীন গ্রাম থেকে পট্টডোরী পুরীতে না পৌঁছালে পুরীর রথযাত্রা শুরু হতো না। বেশ কয়েক বছর হল বসু পরিবারের সদস্যরা গ্রামে থাকেন না। তাই এই প্রথা এখন বন্ধ।

তবে এই ঐতিহাসিক প্রথা বন্ধ হলেও গ্রামবাসীরা এখনো পরম্পরা মেনে রথযাত্রার উৎসব পালন করেন।  আর সেখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। গ্রামে বসে মেলা।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement