প্লাগে আটকানো মোবাইল চার্জার মুখে দিয়ে মৃত্যু শিশুর, জাহাঙ্গিরাবাদে চাঞ্চল্য

বাপের বাড়িতে পৌঁছে মেয়েক শোবার ঘরের বিছানায় বসিয়ে বাইরে ফ্রেশ হতে যান রাজিয়া(Razia)। সেই সময় বিছানা লাগোয়া সুইচবোর্ডে তাঁর মোবাইলটি চার্জ হচ্ছিল। মাঝে ফোন বাজতে থাকায় সেটি খুলেও নিয়ে যান তিনি। তবে প্লাগের সঙ্গে চার্জারটি জুড়েই ছিল এমনকী, সুইচ অফ করতেও ভুলে যান তিনি। এতেই ঘটে বিপত্তি।

প্রতীকী ছবি( Photo Credit: Pexels)

জাহাঙ্গিরাবাদ, ২২ মে: মোবাইল চার্জারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট(Electrocuted)হয়ে মৃ্ত্যু হল এক শিশুর। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের জাহাঙ্গিরাবাদে। শিশুকন্যাটি মা রাজিয়ার সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে। দীর্ঘ ৬২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বেশ ক্লান্তই হয়ে পড়েছিলেন রাজিয়া। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।

জানা গিয়েছে, বাপের বাড়িতে পৌঁছে মেয়েক শোবার ঘরের বিছানায় বসিয়ে বাইরে ফ্রেশ হতে যান রাজিয়া(Razia)। সেই সময় বিছানা লাগোয়া সুইচবোর্ডে তাঁর মোবাইলটি চার্জ হচ্ছিল। মাঝে ফোন বাজতে থাকায় সেটি খুলেও নিয়ে যান তিনি। তবে প্লাগের সঙ্গে চার্জারটি জুড়েই ছিল এমনকী, সুইচ অফ করতেও ভুলে যান তিনি। এতেই ঘটে বিপত্তি, বিছানায় খেলতে খেলতেই আচমকা ওই চার্জারের দিকে শিশুটির নজর পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চটজলদি চার্জারের পিনটি মুখে পুড়ে দেয় সে। সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎশক লাগে। কেননা তখনও তো সুইচটি অন রয়েছে। এর জেরেই মৃত্যু হয় শিশুটির। এদিকে অনেক সময় হয়ে গেলেও মেয়ের কোনওরকম সাড়া না পেয়ে ঘরে আসেন রাজিয়া, দেখেন মেয়ে বিছানায় পড়ে আছে মুখে চার্জারে পিন। সঙ্গে সঙ্গেই সুইচ অফ করে দেন। তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে, শিশুর দেহে কোনও প্রাণের চঞ্চলতা নেই, গোটা বাড়িতেই উঠেছে কান্নার রোল। তড়িঘড়ি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন ওই গৃহবধূ, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা করেই জানিয়ে দেন অনেক আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জাহাঙ্গিরাবাদ(Jahangirabad) থানার পুলিশ। তবে বিষয়টি নিয়ে বধূর পরিবারের তরফে কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের হয়নি। মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। ময়নাতদন্তের পর হাসপাতাল থেকে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে। মেয়েকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রাজিয়া। নিজের সামান্যতম ভুলে একমাত্র সন্তানের চলে যাওয়া তিনি মেনেই নিতে পারছেন না। নিজেকেই নিরন্তর দোষারোপ করে চলেছেন।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement