Nepal Landslides: নেপালে টানা বর্ষণে ভয়াবহ ভূমিধস, নিহত ১০, নিখোঁজ অনেকে

নেপালের বাগলুঙ জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট একাধিক বিধ্বংসী ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে বেশ কয়েকটি গ্রামীণ পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Nepal Landslide (Photo Credits: X/@ravindraJourno)

Nepal Landslides: নেপালের বাগলুঙ জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট একাধিক বিধ্বংসী ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েক জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে বেশ কয়েকটি গ্রামীণ পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিধসের আকস্মিকতায় পাহাড়ি এলাকার বাড়িঘর চাপা পড়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ভয়ঙ্কর কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে পাহাড়ি এলাকার ঢাল ধসে নিচে নেমে আসছে। তমেনখোলা, নিসীখোলা এবং তারাখোলা গ্রামীণ পৌরসভা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। ঘটনা ঘটার পরপরই উদ্ধারকারী দল উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

একাধিক গ্রাম বিপর্যস্ত

বাগলুঙ জেলার পুলিশ প্রধান ফণীন্দ্র প্রসাদ জানান, রবিবার একদিনেই ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয় এবং ১ জন নিখোঁজ হন। এর আগে শনিবার ধসে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

দেখুন নেপালের ভয়াবহ ভিডিও

তমেনখোলা গ্রামীণ পৌরসভা: তমেনখোলা-৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্নাসুক গ্রামে ভূমিধসে ঘরবাড়ি ধসে পড়ে ৮০ বছর বয়সী বুদ্ধিরাজ ঘার্তি এবং ৬৬ বছর বয়সী ভীমদেবী ঘার্তির মৃত্যু হয়। ওই গ্রামেই আরও ৮টি বাড়ি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এছাড়া তমেনখোলা-৪ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তারে ঘর চাপা পড়ে মারা যান হস্তবীর শ্রীপালি (৫০) ও উদিসরা শ্রীপালি (৬৫)। হস্তবীরের স্ত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নিসীখোলা গ্রামীণ পৌরসভা: নিসীখোলা-৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভূমিধসে একটি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়লে একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন ৩৬ বছর বয়সী শ্যামকুমারী বিকি এবং তাঁর তিন সন্তান, মনোজ (১৩), মুকেশ (৮) ও নিশান (৩)। এছাড়া নিসীখোলা-৬ নম্বর ওয়ার্ডে গোয়ালঘর ধসে সূর্যবাহাদুর ঘার্তি (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

তারাখোলা গ্রামীণ পৌরসভা: শনিবার তারাখোলা-৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি ধসে মারা যান ৫৯ বছর বয়সী মানবাহাদুর রোকা।

দ্রুত গতিতে চলছে উদ্ধারকাজ

উপদ্রুত দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়োগ করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, কিছু এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা জারি থাকায় আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও ধসের কারণে রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

দেশজুড়ে দুর্যোগ পরিস্থিতির অবনতি

বাগলুঙের এই ভূমিধস নেপালজুড়ে চলা সাম্প্রতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ারই অংশ। নেপালের ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, দেশের একাধিক জেলায় বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক জীবনহানি ও সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ পৌঁছানো এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement