Nepal Flash Floods 2026: নেপালের বন্যায় ভেসে রাজ্যে ঢুকে পড়েছে বিষাক্ত মাছ, অচেনা মাছ বিক্রি-খাওয়া নিয়ে চরম সতর্কতা
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ভেসে আসা অচেনা কোনো প্রজাতির মাছ ধরা, বেচাকেনা বা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে রাজ্যবাসীকে কড়া সতর্কবার্তা দিল বিহার সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের অন্তর্গত মৎস্য অধিদপ্তর থেকে এই জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
Nepal Flash Floods 2026: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ভেসে আসা অচেনা কোনো প্রজাতির মাছ ধরা, বেচাকেনা বা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে রাজ্যবাসীকে কড়া সতর্কবার্তা দিল বিহার সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের অন্তর্গত মৎস্য অধিদপ্তর থেকে এই জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলিতে, বিশেষ করে পশ্চিম চম্পারণ ও গোপালগঞ্জের গণ্ডক নদী অববাহিকায় বন্যার জলে ভেসে আসা অদ্ভুত দেখতে মাছ খেয়ে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর সামনে আসতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন।
মাছগুলি বিষাক্ত জীবাণু ও রাসায়নিক দূষণের সংস্পর্শে এসেছে
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি নদীর প্রচণ্ড তোড়ে ভেসে আসার কারণে এই মাছগুলি বিষাক্ত জীবাণু ও রাসায়নিক দূষণের সংস্পর্শে এসেছে। ফলে জল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মাছ মানুষের খাওয়ার জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। উল্লেখ্য, নেপালে সাম্প্রতিক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে প্রাণহানির সংখ্যা ৯৫০ ছাড়িয়েছে এবং বেশ কিছু সুড়ঙ্গে প্রায় ৫০০ শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দূষণের কারণ
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নেপালের ত্রিশূলী নদী এবং আশপাশের পাহাড়ি প্রণালী থেকে আসা হড়পা বানের জলে প্রচুর পরিমাণে পয়ঃবর্জ্য, কৃষিভিত্তিক রাসায়নিক, পশুর মৃতদেহ ও পচা জৈব পদার্থ মিশেছে। এই দূষিত জল গণ্ডক এবং কোশীর মতো সীমান্ত নদীতে এসে পড়ায় সেখানকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। বন্যার জলে দীর্ঘ পথ ভেসে আসা এই মাছগুলির দেহে নানাবিধ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও রাসায়নিক দূষক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চেনা মাছের মতো দেখতে হলেও কোনো অচেনা প্রজাতির মাছ খাওয়া চলবে না। বন্যার মাছ খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অচেনা বিশালাকার 'গোঁছ' মাছ শনাক্তকরণ
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (WTI)-এর বিশেষজ্ঞরা গণ্ডক নদীর অববাহিকায় ভেসে ওঠা এই বিশাল আকারের অচেনা মাছগুলিকে 'বাগারিয়াস বাগারিয়াস' (Bagarius bagarius) হিসেবে শনাক্ত করেছেন। সাধারণ ভাষায় এটিকে 'গুঞ্চ ক্যাটফিশ' বা স্থানীয় ভাষায় 'গোচিতা' বলা হয়।
এটি ভারত, নেপাল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত প্রবাহিত নদীর একটি মাংসাশী প্রজাতি। নদী সংলগ্ন মানুষ এটি খেলেও, মৃত্যুর পর এই মাছের মাংস খুব দ্রুত পচে যায়। বন্যার দূষিত ও জমে থাকা জলে এই ধরনের ক্যাটফিশ মারা গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা থেকে তীব্র খাদ্য বিষক্রিয়া (Food Poisoning) হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সরকারি নির্দেশিকা ও নজরদারি
রাজ্য সরকারের তরফে জনসাধারণের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, বন্যার জলে ধরা পড়া কোনো মাছ বেচাকেনা বা গ্রহণ করবেন না। কোনো অস্বাভাবিক বা মৃত মাছ দেখতে পেলে তা অবিলম্বে স্থানীয় জেলা মৎস্য আধিকারিক বা জেলা প্রশাসনকে জানান। ইতিমধ্যেই উত্তর বিহার জুড়ে ত্রাণকার্য পরিচালনার পাশাপাশি পশ্চিম চম্পারণ ও গোপালগঞ্জের স্থানীয় মাছের বাজারগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ মাছ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি না হতে পারে।