Maharashtra Woman Doctor Suicide: সাতারায় তরুণী চিকিৎসকের রহস্যময় মৃত্যুতে ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা মহারাষ্ট্র, চাপে বিজেপি সরকার

পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর রাতে মৃত্যুর পর তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়নি পরের দিন ভোর ৬টা পর্যন্ত। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে দেহটি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে প্রমাণ নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Woman Doctor Suicide Note (Photo Credit: X)

Maharashtra Woman Doctor Suicide: মহারাষ্ট্রের সাতারা (Satara)-য় এক তরুণী চিকিৎসকের আত্মহত্যাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। সরকারি হাসপাতালের সেই মৃত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও পুলিশি চাপে জর্জরিত ছিলেন তিনি, এমনকি স্থানীয় সাংসদ পর্যন্ত ফোন করে তাঁকে বেআইনি সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য করতেন। পরিবার এখন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব, তাদের দাবি রাজ্যের বাইরে থেকে কোনও মহিলা অফিসারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করতে হবে। ২৮ বছর বয়সি ওই চিকিৎসক বিড জেলার ওয়াডওয়ানি তালুকার বাসিন্দা ছিলেন। গত দুই বছর ধরে তিনি সাতারার ফলটন উপজেলা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা

গত ২৩ অক্টোবর রাতে ফলটনের এক হোটেল কক্ষে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, তাঁর হাতে লেখা একটি নোট থেকে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।তাঁর হাতের তালুতে লেখা বার্তায় চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন, বিড জেলারই আত্মীয় সাব-ইন্সপেক্টর গোপাল বাদানে গত ৫ মাসে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি, পুনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত ব্যাংকার যিনি তাঁর বাড়িওয়ালার ছেলে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন। পেশাগত চাপে এবং ব্যক্তিগত নিপীড়নে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে।

দেখুন কী অভিযোগ মেয়েটির পরিবারের

রাজনৈতিক ও পুলিশি চাপের অভিযোগ

মৃত চিকিৎসকের এক আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত এক বছর ধরে তিনি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ও পুলিশি চাপে ছিলেন। এমনকি এক স্থানীয় সাংসদ তাঁকে ফোন করে বারবার গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মিথ্যা ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে বলতেন। বিড জেলার অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে কটাক্ষ করা হতো, এবং বাধ্য করা হতো প্রশাসনিক জালিয়াতিতে অংশ নিতে।

জাল রিপোর্টে সই করানোর চাপ

অভিযোগ, হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও পুলিশ মিলিতভাবে তাঁকে জোর করে মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফিটনেস সার্টিফিকেটে জাল সই করাতো। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের রোগীকেও 'জেল হেফাজতের জন্য ফিট' বলে রিপোর্ট দিতে বাধ্য করা হতো। এর ফলে রোগীকে চিকিৎসা ছাড়াই নিয়ে যাওয়া হয়।

অতিরিক্ত কাজের চাপ ও উপেক্ষিত অভিযোগ

একই হাসপাতালে অন্য মেডিকেল অফিসার থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ময়নাতদন্ত তাঁকেই করতে হতো। এতে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। তিনি ২১টি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে চার পৃষ্ঠার একাধিক চিঠিতে বিস্তারিতভাবে হেনস্থার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মৃত্যুর পরও অনিয়মের অভিযোগ

গত ২৩ অক্টোবর রাতে মৃত্যুর পর তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়নি পরের দিন ভোর ৬টা পর্যন্ত। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে দেহটি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে প্রমাণ নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও সুইসাইড নোটের সন্দেহ

পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে আরও একটি আত্মহত্যার চিঠি ছিল, যা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে। মৃত চিকিৎসকের আত্মীয় বলেন,"সে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, চার পাতার অভিযোগপত্র লিখেছে, শুধু হাতের তালুর ওপর কয়েকটি শব্দ লিখে সে কেন আত্মহত্যা করবে?"

সাতারা পুলিশ ধর্ষণ (বিএনএস ধারা ৬৪) ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার (ধারা ১০৮) মামলা দায়ের করেছে গোপাল বাদানে ও প্রশান্ত ব্যাংকারের বিরুদ্ধে। ব্যাংকারকে ২৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাদানে সেদিনই আত্মসমর্পণ করেন ও পরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

(Social media brings you the latest breaking news, viral news from the world of social media including Twitter, Instagram and YouTube. The above post is embedded directly from the user's social media account. This body of content has not been edited or may not be edited by Latestly staff. Opinions appearing on social media posts and the facts do not reflect the opinions of Latestly, and Latestly assumes no responsibility for the same.)

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement