PM Kisan 23rd installment Date: কবে পাবেন পিএম-কিষাণ-এর টাকা কবে ঢুকবে, eKYC ও ব্যাঙ্ক সিডিং কীভাবে শেষ করে টাকা পাবেন
গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে পিএম-কিষাণ (PM-KISAN) প্রকল্পের ২২তম কিস্তির টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর পরপরই দেশের গ্রামগুলোতে পরবর্তী ২,০০০ টাকার কিস্তি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
PM Kisan 23rd installment Date: গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে পিএম-কিষাণ (PM-KISAN) প্রকল্পের ২২তম কিস্তির টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর পরপরই দেশের গ্রামগুলোতে পরবর্তী ২,০০০ টাকার কিস্তি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এখনও ২৩তম কিস্তির নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা পোর্টাল আপডেট করা এবং ব্যাঙ্ক মিত্রদের কাছে গিয়ে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছেন।
কী বলছে প্রশাসন
সরকারি নথি ও পিএম-কিষাণ পোর্টাল অনুযায়ী, ১৩ মার্চ গুয়াহাটি থেকে ২২তম কিস্তি হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সাথে পরবর্তী কিস্তিগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পেতে কৃষকদের eKYC ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র যাচাই সম্পন্ন করার জোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চার মাসের নিয়মিত ব্যবধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ ও কৃষি পোর্টারের ধারণা—২৩তম কিস্তির টাকা ২০২৬ সালের জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে দেওয়া হতে পারে। তবে এটি একটি আনুমানিক সময়সীমা, কোনো সরকারি সময়সূচি নয়।
২৩তম কিস্তির সম্ভাব্য সময়সূচি
পিএম-কিষাণ প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার মাস অন্তর অর্থ প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ২১তম কিস্তি পৌঁছেছিল নভেম্বর ২০২৫-এ এবং ২২তম কিস্তি প্রদান করা হয় মার্চ ২০২৬-এ। সেই ধারাবাহিকতায়, বর্ষার শুরুর দিকেই ২৩তম কিস্তির টাকা হস্তান্তরের সম্ভাবনা বেশি, যদি কৃষকদের পরিচয় ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য সফলভাবে যাচাই করা থাকে।
তবে ব্যাঙ্ক কিংবা NPCI স্তরে নথির গড়মিল থাকলে টাকা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। ফলে একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কৃষকরা এই টাকা পেতে পারেন।
প্রথম ধাপ: eKYC ও ডিজিটাল যাচাইকরণ
কৃষি মন্ত্রক থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, কৃষকদের পিএম-কিষাণ পোর্টাল বা কমন সার্ভিস সেন্টারের (CSC) মাধ্যমে OTP-ভিত্তিক অথবা বায়োমেট্রিক eKYC সম্পন্ন করতে হবে। verification অসম্পূর্ণ থাকলে পরবর্তী কিস্তি আটকে যেতে পারে এবং এর জন্য আলাদা করে কোনো SMS পাঠানো হবে না।
কী করবেন: pmkisan.gov.in পোর্টালে লগ-ইন করে দেখে নিন eKYC স্ট্যাটাস সফল বা Verified দেখাচ্ছে কিনা।
সমস্যা হলে: CSC কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলতে সমস্যা হলে অন্য স্ক্যানারে চেষ্টা করুন এবং রসিদ বা প্রমাণপত্র সাথে রাখুন।
ব্যাঙ্ক সিডিং ও NPCI ম্যাপিং: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
eKYC সম্পন্ন করার পরও অনেকের অভিযোগ থাকে যে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি। এর প্রধান কারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে সঠিকভাবে আধার ও NPCI ম্যাপিং না থাকা।
NPCI-এর নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক থেকেই এই ম্যাপিং সম্পন্ন বা পরিবর্তন করা যায়। সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নথি জমা দিলেই সরাসরি ডিবিটি (DBT) সক্রিয় হয় না।
পরামর্শ: আপনার হোম ব্রাঞ্চ বা গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে (CSP) গিয়ে ডিবিটি (DBT) স্ট্যাটাস "Active" আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে নতুন সম্মতিপত্র (Consent Form) জমা দিন।
কোথায় কী স্ট্যাটাস যাচাই করবেন
eKYC যাচাই: pmkisan.gov.in অথবা CSC কেন্দ্রে গিয়ে চেক করুন। স্ট্যাটাস "eKYC completed" বা "verified" থাকতে হবে।
ব্যাঙ্ক সিডিং:নিজ ব্যাঙ্ক শাখা বা পাসবুক আপডেটের মাধ্যমে যাচাই করুন। স্ট্যাটাস "Aadhaar linked to active account" হওয়া আবশ্যক।
NPCI ম্যাপিং:ব্যাঙ্কের DBT ডেস্ক বা CSP প্রিন্টআউট থেকে নিশ্চিত করুন। স্ট্যাটাস "Active for DBT" অথবা "Aadhaar mapper updated" থাকতে হবে।
স্ট্যাটাসের অর্থ ও ভুল সংশোধনের উপায়
অনলাইন পোর্টালে কৃষকরা প্রায়ই কিছু মেসেজ দেখতে পান:
FTO Generated: অর্থ প্রদানের ফাইল ব্যাঙ্কের কাছে পাঠানো হয়েছে।
Rft Signed by State: রাজ্য সরকার থেকে অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
Rejected by Bank / Payment Failed: এই ধরণের মেসেজ থাকলে বুঝতে হবে অ্যাকাউন্টে ভুল আছে। নাম না মেলা, বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্ট বা ভুল IFSC কোডের কারণে এটি হতে পারে।
করণীয়: ব্যাঙ্ক থেকে প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ বা SMS সংগ্রহ করে নথিপত্র ঠিক করুন। সংশোধনের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পোর্টালে স্ট্যাটাস পুনরায় চেক করুন।
অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া
সব তথ্য সঠিক থাকার পরও সমস্যা সমাধান না হলে কৃষকরা পিএম-কিষাণ পোর্টালে ‘Grievance Redressal’ সেকশনে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এছাড়া ব্লক কৃষি অফিসে জমির কাগজপত্র, আইডেন্টিটি কার্ড ও ব্যাঙ্কের পাসবুক নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সরকারি হেল্পলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করতে পারেন। বর্ষার শুরুতেই ২৩তম কিস্তি প্রত্যাশিত হওয়ায়, যেসকল কৃষকের মার্চ মাসের স্ট্যাটাস আটকে ছিল, তাঁদের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো eKYC ও NPCI ম্যাপিং সম্পন্ন করলেই পরবর্তী ২,০০০ টাকা নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাকাউন্টে আসবে।