Guwahati Shocker: স্ত্রীকে খুনের পর টুকরো লাশ ফ্রিজে ভরল স্বামী, ডিপ ফ্রিজ থেকে উদ্ধার কাটা মাথা

মাত্র ছয় মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। ঘরে তীব্র পচা দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দিলে পুলিশ এসে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পায়। যুবতীর দেহ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং তাঁর কাটা মাথাটি কালো পলিথিনে মুড়ে রাখা ছিল ফ্রিজের ভিতরে।

প্রতীকী ছবি (Photo Credit: File Photo)

Guwahati Shocker: অসমের গুয়াহাটিতে প্রকাশ্যে এল এক চরম ভয়াবহ ও নারকীয় হত্যাকাণ্ড। হাতিগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে ২৫ বছরের রিয়া তালুকদার গোস্বামীকে নির্মমভাবে খুন করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ উঠল স্বামী রামানুজন গোস্বামীর বিরুদ্ধে। মাত্র ছয় মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। ঘরে তীব্র পচা দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দিলে পুলিশ এসে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পায়। যুবতীর দেহ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং তাঁর কাটা মাথাটি কালো পলিথিনে মুড়ে রাখা ছিল ফ্রিজের ভিতরে। স্ত্রীকে পরকীয়ার সন্দেহে খুন করেছে বলে অভিযুক্ত স্বামী হাতিগাঁও থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।

দুর্গন্ধে উন্মোচিত নির্মম সত্যি

হাতিগাঁওয়ের বিশিষ্টপুর বাইলেনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই এক বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল রক্তের দাগ, আসবাবপত্র এবং বেশ কয়েকটি মদের বোতল। তদন্তে জানা যায়, মৃতার নাম রিয়া তালুকদার গোস্বামী (২৫)। তিনি ফ্যান্সি বাজারের একটি বুটিকে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামী পেশায় একজন উবার চালক, যার মূল বাড়ি গৌরীপুরে। মাত্র ছয় মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।

ফ্রিজে পলিথিনে মোড়ানো কাটা মাথা

পুলিশ ফ্ল্যাটের ভেতরের দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে। রিয়ার দেহটি ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর আঙুলগুলি কেটে আলাদা করা হয়েছিল। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, যুবতীর কাটা মাথাটি একটি কালো পলিথিন ব্যাগে মুড়ে রেফ্রিজারেটরের (ফ্রিজ) ভেতরে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি অভিযুক্ত যুবতীর শরীরের কিছু অংশ কুকুরের সামনে খেতে দিয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

কী বলছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দেহ উদ্ধারের অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার

ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী রামানুজন গোস্বামী নিজে থেকেই হাতিগাঁও থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ তাকে তৎক্ষণাৎ হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে খবর।

পুলিশের দাবি—

পারিবারিক কলহ: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ওই রাতে দুজনের মধ্যে চরম বচসা হয়।

পরকীয়ার সন্দেহ: স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত, এমন সন্দেহের বশবর্তী হয়েই এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে অভিযুক্ত।

মাদকাসক্তির ইতিহাস:রামানুজন মাদকাসক্ত ছিল এবং এর আগে তিন মাস একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) চিকিৎসাধীন ছিল।

চলছে তদন্ত

বর্তমানে সিআইডি (CID), ফরেনসিক টিম এবং আঙুলের ছাপ বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছেন। রিয়ার একমাত্র জীবিত ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও অত্যন্ত পাশবিক হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সমগ্র হাতিগাঁও এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement