Attar Singh Bhedana Death: রাজস্থানের ভরতপুরে গণপিটুনিতে হত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আতার সিং ভদনার
রাজস্থানের ভরতপুর জেলায় এক গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আতার সিং ভদনা (Attar Singh Bhedana)।
Attar Singh Bhedana Death: রাজস্থানের ভরতপুর জেলায় এক গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আতার সিং ভদনা (Attar Singh Bhedana)। ভরতপুরের বৈর থানা এলাকার ভাঁওদা গ্রামে একটি ক্রাশার মাইনিং লিজ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একদল গ্রামবাসী লাঠি ও পাথর নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে জয়পুরের এসএমএস (SMS) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে মৃত্যু হয় তাঁর।
কীভাবে ঘটল হামলা?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৭:০০ টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় আতার সিং ভদনা তাঁর ক্রাশার সাইটে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎই সেখানে চড়াও হয়ে বিধায়ক এবং তাঁর সহযোগী নাদবাইয়ের বাসিন্দা গগন শর্মার ওপর আক্রমণ চালায়। লাঠি ও পাথরের আঘাতে দুজনই গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় বৈর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসএমএস থানার এসএইচও (SHO) জিতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, আঘাত আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিধায়ককে জয়পুরের এসএমএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে রাত ১১:৩০ নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গগন শর্মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভরতপুরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রাক্তন বিধায়কের দেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
চার বছরের পুরনো বিরোধ ও জমি বিতর্ক
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ক্রাশার পরিচালকদের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে এই বিবাদ চলছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভদনা গবাদি পশুর চরানোর জমি দখল করে বেআইনি খনি চালাচ্ছিলেন। এছাড়া খনি এলাকায় যাওয়ার রাস্তা নিয়েও আলাদা বিতর্ক ছিল। এর প্রতিবাদে গত দুই বছর ধরে গ্রামবাসীরা দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে ক্রাশার প্ল্যান্টটি বন্ধ ছিল। রবিবার তা পুনরায় চালুর চেষ্টা করতে আতার সিং ভদনা সেখানে পৌঁছালে গ্রামবাসীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী কমলেশ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে আগে থেকেই এই পরিস্থিতির বিষয়ে বারবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খনির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল এবং জলের পাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছিল। রবিবারের হামলায় স্বামীকে গুলিও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বৈর সাব-ডিসট্রিক্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর আপাতত গুলির আঘাতের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, গ্রামবাসীদের দাবি, তারা গত ১০-১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভদনা গোষ্ঠীর ৪০-৫০ জন লোক এসে জোরপূর্বক বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
তদন্তে পুলিশ ও এলাকায় বাহিনী মোতায়েন
বৈর থানার এসএইচও ধীরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ঘটনার সময় উভয় পক্ষই লাঠি ও পাথর ব্যবহার করে। এই ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন তার সঠিক সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গুলি চালনার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে সত্যতা যাচাই করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ঘটনার তদন্তে গতি আনতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।