SIR Notices: আদবানী থেকে কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়ারা শুনানির নোটিশ পেলেন

দিল্লির ভোটার তালিকায় তথ্যসংক্রান্ত গরমিল মেটাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রায় ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। SIR-এর এই তালিকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নাম রয়েছে একাধিক ভিআইপি ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের।

LK Advani and Manish Sisodia (Photo Credits: Facebook)

SIR Notices: দিল্লির ভোটার তালিকায় তথ্যসংক্রান্ত গরমিল মেটাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রায় ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। SIR-এর এই তালিকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নাম রয়েছে একাধিক ভিআইপি ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণী, দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া এবং বিজেপি বিধায়ক কৈলাশ গেহলটের মতো হেভিওয়েট নেতারাও স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর অধীনে নোটিস পেয়েছেন।

তবে রবিবার দিল্লির নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসআইআর (SIR) নোটিস পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়ে যাচ্ছে।

কেন এই নোটিস?

গত ৩১ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, বহু ভোটারের বর্তমান তথ্য ২০০২ সালের শেষ 'ইনটেনসিভ রিভিশন'-এর রেকর্ডের সঙ্গে মিলছে না ("No Mapping")। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে তথ্যে গাণিতিক বা যুক্তিসঙ্গত গরমিল (Logical Discrepancies) ধরা পড়েছে। নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, প্রায় ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে রবিবার পর্যন্ত ৩১.৬৩ লক্ষেরও বেশি নোটিস পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে।

নোটিস পেলেন যাঁরা

লালকৃষ্ণ আদবাণী ও তাঁর পরিবার

ভারতের প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদবাণী, তাঁর মেয়ে প্রতিভা আদবাণী এবং পুত্রবধূ গীতিকা আদবাণীকে "নো ম্যাপিং" ক্যাটাগরিতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালের তথ্যের সঙ্গে তাঁদের বর্তমান রেকর্ডের মেলবন্ধন না মেলাতেই এই নোটিস। তবে তাঁর ছেলে জয়ন্ত আদবাণীর রেকর্ড সফলভাবে ম্যাপ করা গেছে। তাঁরা সকলে নতুন দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের নিবন্ধিত ভোটার।

মণীশ সিসোদিয়া, স্ত্রী ও ছেলে

দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, তাঁর স্ত্রী সীমা সিসোদিয়া এবং ছেলে মীর সিসোদিয়ার নামেও নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। সীমার নামের বানানে গরমিল এবং মীরের ক্ষেত্রে অভিভাবকের নামে বৈষম্য থাকার কারণে এই নোটিস।

কৈলাশ গেহলট

প্রাক্তন আপ নেতা তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক কৈলাশ গেহলট, তাঁর স্ত্রী মৌসুমি মিশ্র গেহলট এবং মেয়ে জাহ্নবী গেহলটও নোটিস পেয়েছেন। তাঁদেরও "নো ম্যাপিং" বিভাগের আওতায় রাখা হয়েছে।

অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

তালিকায় আরও রয়েছেন:

* আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর পরিবার

* দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা

* পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও তাঁর স্ত্রী

* প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী

* সিবিআই অধিকর্তা

* বিজেপি সাংসদ বাঁশুরী স্বরাজ

* প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিব্বল

নাম বাদ পড়ছে না, স্পষ্ট করল কমিশন

খবরটি সামনে আসতেই দিল্লি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কার্যালয় থেকে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়। কমিশন জানায়, ভোটার তালিকার অসংগতি দূর করতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। "কাউকে শুনানি ও উপযুক্ত শুনানির সুযোগ না দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে না। নোটিস পাওয়া ভোটাররা তাঁদের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ERO) কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ জবাব জমা দিতে পারবেন।"

পরবর্তী পদক্ষেপ ও সময়সীমা

দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর

নোটিসের জবাব দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৯ অক্টোবর

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জমাকৃত নথিপত্র পরীক্ষার পরেই চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হবে। ভোটার তালিকাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement