Delhi Protest Sites: যন্তর-মন্তর আর প্রতিবাদস্থল নয়, বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ও সিবিডি গ্রাউন্ড

জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক আন্দোলন, গণবিক্ষোভ ও স্থায়ী ধর্না-অবস্থানের দীর্ঘদিনের পরিচিত স্থান যন্তর-মন্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদস্থল বা ‘প্রোটেস্ট সাইট’ হিসেবে বাতিল করল দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

CJP Protest at Jantar Mantar (Photo Credits: X/@skynewsagra)

Delhi Protest Sites: জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক আন্দোলন, গণবিক্ষোভ ও স্থায়ী ধর্না-অবস্থানের দীর্ঘদিনের পরিচিত স্থান যন্তর-মন্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদস্থল বা ‘প্রোটেস্ট সাইট’ হিসেবে বাতিল করল দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এই বিষয়ে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে যন্তর-মন্তরের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। একই সাথে রাজধানীতে আন্দোলন ও সভা-সমাবেশের জন্য তিনটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি হলো কেন্দ্রীয় দিল্লির বিখ্যাত রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ড। নতুন এই স্থানগুলিতে কীভাবে এবং কোন নিয়মে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা যাবে, সে সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র’ (SOP) পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিতর্কের জন্ম

কূটনৈতিক এলাকা, সংসদ ভবন ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মন্ত্রক সংলগ্ন হওয়ায় যন্তর-মন্তর দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে সম্প্রতি স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট ও অন্যান্য দলের লাগাতার বিক্ষোভের পর থেকেই মধ্য দিল্লির নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দিল্লি পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের মতে, যন্তর-মন্তর থেকে দূরবর্তী স্থানে প্রতিবাদ সরিয়ে নিয়ে সরকার গণতান্ত্রিক উপায়ে বিরোধ প্রদর্শনের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

কী মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল

অন্যদিকে, যন্তর-মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ফলে মধ্য দিল্লির যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এতদিন যন্তর-মন্তরে বড় ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভের কারণে সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো, যা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলত। তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকার ট্রাফিক যানজট মুক্ত থাকবে। নতুন নির্ধারিত ভেন্যুগুলিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ কী ধরণের পরিকাঠামো গড়ে তোলে, এখন সেটাই দেখার।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে দিল্লির এই নির্দিষ্ট তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করা যাবে:

1. রামলীলা ময়দান (Ramlila Maidan): যন্তর-মন্তর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এটি। ঐতিহাসিক নানান আন্দোলন ও জনসভার সাক্ষী এই ময়দানটি নতুন তালিকার সবচেয়ে কাছের ভেন্যু।

2. সিবিডি গ্রাউন্ড, শাহদরা, পূর্ব দিল্লি (CBD Ground): যন্তর-মন্তর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।

3. বুরারি গ্রাউন্ড, উত্তর দিল্লি (Burari Ground): এটি সেন্ট্রাল দিল্লি থেকে প্রায় ২১ থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন স্থানগুলিতে বিক্ষোভ পরিচালনার জন্য খুব শীঘ্রই পৃথক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করা হবে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement