Delhi Nightclub Murder: জন্মদিনের পার্টিতে বিয়ার বিতর্কে দিল্লির নাইটক্লাবে পিটিয়ে খুন

উত্তর দিল্লির একটি নাইটক্লাবে জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন বিয়ার ছিটকে পড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্লাবের ম্যানেজারের স্ত্রীর গায়ে বিয়ার পড়ার জেরে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে ২৯ বছর বয়সি এক চালককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।

Representative Image

Delhi Nightclub Murder: উত্তর দিল্লির একটি নাইটক্লাবে জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন বিয়ার ছিটকে পড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্লাবের ম্যানেজারের স্ত্রীর গায়ে বিয়ার পড়ার জেরে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে ২৯ বছর বয়সি এক চালককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নাইটক্লাবের ম্যানেজার, তাঁর স্ত্রীসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ভোরের দিকে, উত্তর দিল্লির ইন্দ্রলোক এলাকার সরাই রোহিলা থানাধীন নিউ রোহতক রোডের একটি নাইটক্লাবে। নিহত যুবকের নাম দলজিৎ সিং (২৯)। তিনি রঘুবার নগরের জেজে কলোনির বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় একজন চালক ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর একটি আট বছরের ছোট ছেলেও রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ দলজিৎ ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ওই নাইটক্লাবে একটি জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেই ক্লাবেরই ম্যানেজারের স্ত্রীও সেখানে নিজের জন্মদিন উদযাপন করছিলেন। পার্টি চলাকালীন দুর্ঘটনাবশত দলজিৎদের পক্ষ থেকে বিয়ারের একটি গ্লাস থেকে কিছুটা তরল ওই ম্যানেজারের স্ত্রীর গায়ে ছিটকে পড়ে।

এই সামান্য বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, নাইটক্লাবের ম্যানেজার ও বাউন্সাররা দলজিৎ ও তাঁর বন্ধুদের ওপর চড়াও হন এবং কিল-ঘুষি, লাঠি ও কাঁচের বোতল দিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করেন। দলজিতের এক বন্ধু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই হামলা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। এমনকি তাঁদের একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বাড়ি ফেরার পর শারীরিক অবনতি ও মৃত্যু

মারধরের পর দলজিৎ ও তাঁর বন্ধুরা কোনোমতে বাড়ি ফিরে যান। বাড়ি ফেরার পর দলজিতের বমি হয় এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। তবে রবিবার (১১ অক্টোবর) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপর তাঁর স্ত্রী পূজা তাঁকে খ্যায়ালার গুরু গোবিন্দ সিং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসাপাতালে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং নাইটক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে।

৫ জন গ্রেফতার ও পুলিশের পদক্ষেপ

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলেন, ক্লাবের ম্যানেজার সানি ওরফে গৌরব, তাঁর স্ত্রী হর্ষিতা, গেট কিপার শ্রবণ কুমার, বাউন্সার বিকাশ বালিয়ান এবং গেস্ট অর্গানাইজার দিলাওয়ার ওরফে হাসনাইন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) খুন, খুনের চেষ্টা, স্বেচ্ছায় আঘাত হানা, বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং অপরাধমূলক হুমকির ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়ের পরেও রাত ৩:৩০ থেকে ভোর ৫:০০ টা পর্যন্ত নাইটক্লাবটি খোলা রাখার দায়ে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইন্দ্রলোক পুলিশ পোস্টের ইনচার্জকে ডিস্ট্রিক্ট লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দলজিতের পরিবারে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement