Delhi Model Murder: অভিযুক্ত জিম ট্রেনার ইমরানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালেও ছিল পকসো মামলা

পশ্চিম দিল্লির তিলক নগরে ২১ বছর বয়সী মডেল এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুসকান শর্মা হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইমরান ওরফে আকিবের একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক ইতিহাস সামনে আসছে।

Model Muskan Sharma and Imran (Photo Credits: X/@sirajnoorani)

Delhi Model Murder: পশ্চিম দিল্লির তিলক নগরে ২১ বছর বয়সী মডেল এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুসকান শর্মা হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইমরান ওরফে আকিবের একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক ইতিহাস সামনে আসছে। রাজৌরি গার্ডেনে পুলিশি এনকাউন্টারে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ২০১৮ সালে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে 'পকসো' (POCSO) আইনেও মামলা রুজু করা হয়েছিল। বর্তমানে অভিযুক্ত ইমরান পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইমরানের এই পুরনো অপরাধমূলক অতীত সামনে আসার পর পুরো ঘটনার তদন্তের পরিধি ও ধরণ আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।

পুরানো অপরাধের নথি: ২০১৮-র পকসো ও ২০২১-এর মারাত্মক হামলা মামলা

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে ২০১৮ সালে তিলক নগর থানাতেই ইমরানের বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি, ক্রমাগত পিছু নেওয়া (Stalking), ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক আঘাত করা এবং নারীর সম্মানহানির চেষ্টার অভিযোগে পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শুধু পকসো মামলা নয়, ২০২১ সালেও তার বিরুদ্ধে মারাত্মক আঘাত ও খুনের চেষ্টার একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে এক ব্যক্তির মাথায় পাথরের স্ল্যাব দিয়ে আঘাত করা ও মাটিতে ফেলে মারধর করার অভিযোগে আদালত নির্দেশে ২০২১ সালে ইমরানের বিরুদ্ধে তিলক নগর থানায় মামলা রুজু হয়েছিল।

এনকাউন্টার ও গ্রেফতারির নাটকীয় মুহূর্ত

গত বুধবার তিলক নগরের নিজ বাসভবনে মুসকানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর ইমরান এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় এবং ক্রমাগত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। তাকে ধরতে পশ্চিম দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম অভিযানে নামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজৌরি গার্ডেন এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কাছে পুলিশ তাকে ঘিরে ফেললে ইমরান আত্মসমর্পণ না করে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশ পালটা জবাব দিলে দুই তরফে মোট ১১ রাউন্ড গুলি চলে। ইমরানের ছোড়া ৪ রাউন্ড গুলির জবাবে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি চালায়, যার মধ্যে ৩টি গুলি তার হাঁটুতে লাগলে সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মুসকান ইমরানের ফোন ধরা বন্ধ করে দেওয়া এবং তাকে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক করে দেওয়ার পর থেকেই ইমরান চরম ক্ষুব্ধ ও উন্মাদ হয়ে উঠেছিল। এ ছাড়া মুসকান অন্য কোনো যুবকের সঙ্গে কথা বলছে এমন সন্দেহ ও তীব্র ঈর্ষা থেকেও এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে সে। হত্যার পর ইমরান মুসকানের আইফোনটি চুরি করে নিয়ে চম্পট দেয়, যাতে তাদের পুরনো চ্যাট ও ডিজিটাল প্রমাণ মুছে ফেলা যায় বলে পুলিশের সন্দেহ। এ ছাড়া ইমরানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ ভিডিও পোস্টের বিষয়টিরও তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খুনের মূল রহস্য ও ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস উন্মোচন করা হবে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement