Bihar Flood: বিহারে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, একাধিক জেলায় বিপদসীমার ওপরে গঙ্গার জল, পটনাকে নিয়ে আশঙ্কা

Bihar Flood: উজান থেকে নেমে আসা জল এবং টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বিহারে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গঙ্গা নদী।

Bihar on Flood Alert as Ganga Crosses Danger Level in Several Districts (Photo Credits: X/@airnewsalerts)

Bihar Flood: উজান থেকে নেমে আসা জল এবং টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বিহারে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গঙ্গা নদী। জলসম্পদ দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাটনা, বক্সার, মুঙ্গের এবং ভাগলপুর সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গঙ্গার জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে নিচু এলাকা ও নদীর তীরবর্তী জনপদগুলো জলে ভেসে গেছে, যার জেরে রাজ্য প্রশাসন হাই-অ্যালার্ট জারি করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে।

পটনা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় বন্যার আশঙ্কা

রাজধানী পাটনার দিঘা, গান্ধীঘাট এবং হাথিদা স্টেশনে গঙ্গার জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। জল ঢুকে পড়েছে নিচু কৃষি জমি ও দিয়ারা (নদীগর্ভের দ্বীপ) অঞ্চলের লোকালয়ে। জেলা সদরের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকাগুলোর যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন দৈনন্দিন চলাচলের জন্য একমাত্র নৌকার ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।

দেখুন ভিডিও

মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি খুবই খারাপ

একইভাবে বৈশালী, বেগুসরাই, লখিসরাই এবং ভাগলপুরেও হু-হু করে বাড়ছে জল। পুনপুন, গণ্ডক ও কোশী নদীর বাড়তি জল গঙ্গার মূল প্রবাহে এসে মেশায় রাজ্যের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।

দেখুন ভিডিও

কৃষি ও সাধারণ জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব

বন্যার জলে হাজার হাজার হেক্টর জমির দাঁড়িয়ে থাকা মরশুমি ফসল জলের তলায় তলিয়ে গেছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেই সঙ্গে দুর্গত এলাকাগুলোতে সুপেয় পানীয় জল এবং গবাদি পশুর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও তীরের মাটির ভাঙনের কারণে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও স্থানীয় মাটির বাঁধ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য জোরদার

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের পাশাপাশি এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF) টিমকে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে। ভিটেমাটি হারা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে অস্থায়ী ত্রাণ শিবির ও কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে।

জলসম্পদ দফতরের বিশেষজ্ঞরা নদী বাঁধগুলোর ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন, যাতে দুর্বল অংশগুলো দ্রুত মেরামত করা যায়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পলিথিন শিট, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণের জন্য জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিমালয় ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিহারে প্রতি বছরই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement