কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে FIR দায়ের দিল্লি পুলিশের, চরমে বাংলা সাহিব গুরুদ্বার বিতর্ক

দিল্লির ঐতিহাসিক বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে গোলমাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আম আদমি পার্টির (AAP) শীর্ষনেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দলের একাধিক নেতা- বিধায়কদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করল দিল্লি পুলিশ।

Arvind Kejriwal (Photo Credits: X)

Arvind Kejriwal FIR: দিল্লির ঐতিহাসিক বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে গোলমাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আম আদমি পার্টির (AAP) শীর্ষনেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দলের একাধিক নেতা- বিধায়কদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করল দিল্লি পুলিশ। দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির (DSGMC) জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিটির জমা দেওয়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভাইরাল ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১০ অক্টোবর, শনিবার একটি বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে গুরুদ্বার চত্বরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। আপ নেতৃত্বের দাবি, শিখদের এই পবিত্র ধর্মস্থলে পোশাক পরা পুলিশকর্মীরা জুতো পায়ে এবং মাথা না ঢেকে প্রবেশ করে পবিত্রতা নষ্ট করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি আপ-এর

গুরুদ্বারের মার্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছে আম আদমি পার্টি। একই সঙ্গে আটক হওয়া দলীয় কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। আপ বিধায়ক ও প্রধান মুখপাত্র কুলদীপ সিং ধালিওয়াল অভিযোগ করেন, এই ঘটনা শিখ সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। ১৯৮৪ সালের অপারেশন ব্লু স্টারের বেদনাদায়ক স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি বলেন, “শিখ সমাজ অতীতের সেই ক্ষত আজও ভুলেনি।” তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “যারা ১৯৮৪-র হিংসা নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করে, আজ তাদের জমানাতেই ধর্মস্থানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।” বিষয়টি নিয়ে আকাল তখতের জাথেদার এবং শিখ সংগঠনগুলির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

‘কালো দিন’ আখ্যা আপ বিধায়কদের, তোপ বাদল-ধামীকেও

আপ বিধায়ক বলজিন্দর কৌর ১০ অক্টোবরের দিনটিকে ‘কালো দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের রোখাতে সাধারণ যাত্রীদের হেনস্থা করা হয়েছে, মেট্রো পরিষেবা ও বাস চলাচল ব্যাহত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গুরুদ্বারের ‘সরাই’ বা অতিথিশালা থেকে মানুষদের জোড় জবরদস্তি বের করে দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কী বলছেন অকালি দলের প্রধান

এই ইস্যুতে শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল এবং এসজিপিসি (SGPC) সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলজিন্দর কৌর। অপর আপ বিধায়ক মানবিন্দর সিং গিয়াসপুরা বলেন, ১৬৬৪ সালে অষ্টম শিখ গুরু হরকিষেণ সাহেবের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক গুরুদ্বারে পুলিশের এহেন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তদন্তে দিল্লি পুলিশ

পুলিশ সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিএসজিমিসি (DSGMC)-র তরফে যে সমস্ত ভিডিও প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement