Agra Road Tragedy: আগ্রায় রাস্তার কাদার গর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে অ্যাম্বুল্যান্স, প্রসূতির গর্ভেই মৃত্যু সদ্যজাতের

রাস্তার কাদার গর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রইল জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাম্বুল্যান্স। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অনাগত সন্তানকে হারালেন এক অসহায় মা।

Representation Image (Photo Credits: File Image)

Agra Road Tragedy: রাস্তার কাদার গর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রইল জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাম্বুল্যান্স। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অনাগত সন্তানকে হারালেন এক অসহায় মা। উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলার বাহ্ অঞ্চলে অবকাঠামোগত বেহাল দশা এবং প্রশাসনিক চরম উদাসীনতার এক মর্মান্তিক ছবি ফের সামনে এলো। বাহ্ ব্লকের গড়বর গ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী নিধি দেবী প্রসববেদনায় ছটফট করতে শুরু করলে তাঁর পরিবার তড়িঘড়ি সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেয়।

কাদার গর্তে আটকে গিয়েছিল অ্যাম্বুলেন্সটি

দ্রুত গাড়িটি গ্রামে পৌঁছালেও বিপত্তি ঘটে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর। গ্রামের মূল হাইওয়ে সংযোগকারী লিংক রোডের একটি বিশাল ও গভীর কাদার গর্তে অ্যাম্বুল্যান্সের চাকা আটকে যায়। গাড়িটি উদ্ধার করার জন্য চালক চেষ্টা চালান, তবে কাদার গভীরতা বেশি থাকায় গাড়িটি নড়ানো সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে গ্রামবাসী একটি ট্রাক্টর নিয়ে এসে প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে।

শেষরক্ষা হয়নি

সমস্ত বাধা পেরিয়ে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রসূতিকে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছাতে অতিরিক্ত দেরি হওয়া এবং শারীরিক জটিলতার কারণে শিশুটির গর্ভেই মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। তবে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন।

ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, মাত্র ছয় মাস আগেই পূর্ত দপ্তর এই রাস্তাটি মেরামত করেছিল। কিন্তু মাসখানেক আগের ভারী বৃষ্টি ও মাটি ক্ষয়ের কারণে রাস্তার এক বিশাল অংশ ধসে গিয়ে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পূর্ত দপ্তরের কাছে দরবার করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর ‘সম্পূর্ণ সমাধান দিবস’-এ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন এবং স্থায়ী ঢালাই রাস্তার দাবির পাশাপাশি গাফিলতির তদন্ত চান। বাহ্-এর মহকুমা শাসক বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনা ফের একবার প্রামাণ করল কীভাবে গ্রামীণ এলাকার জীর্ণ রাস্তাঘাট অগণিত মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement