Nana Patekar No More: নানা পাটেকর প্রয়াত, কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ তাঁর সবচেয়ে আইকনিক চরিত্রগুলিতে
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রবীণ ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেতা নানা পাটেকর। তীব্র অভিনয়শৈলী এবং শক্তিশালী সংলাপ পরিবেশনের জন্য জনপ্রিয় এই বর্ষীয়ান শিল্পী আজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
Nana Patekar No More: ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রবীণ ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেতা নানা পাটেকর। তীব্র অভিনয়শৈলী এবং শক্তিশালী সংলাপ পরিবেশনের জন্য জনপ্রিয় এই বর্ষীয়ান শিল্পী আজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ডোনা পোলাতে নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ভোর ৫:২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুড়ুদ-জঞ্জিরায় বিশ্বনাথ পাটেকর হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বহু দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অর্জন করেছেন ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ৪টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ২টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২টি মারাঠি ফিল্মফেয়ার এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে অনবদ্য অবদানের জন্য ২০১৩ সালে দেশের সম্মানজনক 'পদ্মশ্রী' পুরস্কার।
নানা পাটেকরের স্মরণীয় কিছু পারফরম্যান্স
খলনায়ক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের চরিত্র—সব ভূমিকাকেই তিনি নিখুঁত বাস্তবতা ও নিজস্ব তীব্রতায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর কয়েকটি আইকনিক চরিত্র এক নজরে:
সাধু আগাশে — 'আব তাক ছাপ্পান' (২০০৪):
রামগোপাল বর্মা প্রযোজিত ও শিমিত আমিন পরিচালিত এই অপরাধভিত্তিক সিনেমায় এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট সাধু আগাশের ভূমিকায় নানার অভিনয় সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড দমনে তাঁর রুক্ষ কিন্তু নীতিবান চরিত্রটি আজীবন মনে রাখার মতো।
দেখুন ভিডিও
রাকেশ মারিয়া — 'দ্য অ্যাট্যাকস অফ ২৬/১১' (২০১৩):
২০০৮ সালের মুম্বাই জঙ্গি হামলার ওপর তৈরি এই ডকু-ড্রামায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন নানা পাটেকর। বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর ছবিটি দারুণ সাড়া ফেলেছিল।
গণপত বেলওয়ালকার — 'নটসম্রাট' (২০১৬):
মারাঠি সাহিত্যের কিংবদন্তি নাটক অবলম্বনে তৈরি মহেশ মাঞ্জরেকারের এই ছবিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত থিয়েটার অভিনেতার জীবনের করুণ বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলেন নানা। ছবিটি সে সময়ের সর্বোচ্চ আয়কারী মারাঠি সিনেমা হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল।
উদয় শেট্টি — 'ওয়েলকাম' (২০০৭):
কমেডি ধারায় নানার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ মেলে এই ব্লকবাস্টার ছবিতে। নরম মনের গ্যাংস্টার উদয় শেট্টির চরিত্রে তাঁর কমিক টাইমিং দর্শককে হাসিয়ে ভাসিয়েছিল।
আন্না — 'পরিন্দা' (১৯৮৯):
বিধু বিনোদ চোপড়ার এই ক্লাসিক ক্রাইম থ্রিলারে ভয়ংকর গ্যাংস্টার আন্নার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এটি পরবর্তীতে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে ভারতের সরকারি এন্ট্রি ছিল।
প্রতাপ নারায়ণ তিলক — 'ক্রান্তিবীর' (১৯৯৪):
অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিপ্লবী প্রতাপ তিলকের চরিত্রে নানার বিস্ফোরক অভিনয় তাঁকে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়। ভারতীয় সিনেমা প্রেমিদের কাছে এই ছবির সংলাপ আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি সোনালী যুগের অবসান ঘটল। তাঁর অসাধারণ অভিনয় এবং কালজয়ী চরিত্রগুলো বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।