Nana Patekar Dies at 75: স্মরণে নানা পাটেকর, সেরা দশ সিনেমা, চিরস্মরণীয় ,সংলাপ

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক যুগের অবসান। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার (বিশ্বনাথ পাটেকার)। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী শিল্পী।

Nana Patekar (Photo Credit: Twitter@ANI)

Nana Patekar Dies at 75:  ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক যুগের অবসান। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার (বিশ্বনাথ পাটেকার)। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী শিল্পী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সকালে নিজ বাসভবনে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রূপালী পর্দা থেকে শুরু করে কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে।

নিজস্ব সংলাপ পরিবেশন, তীক্ষ্ণ চোখের ভাষা আর আপসহীন চেতনার জন্য নানা পাটেকার ভারতীয় সিনেমায় যে আলাদা স্থান তৈরি করেছিলেন, তা চিরকাল অনন্য হয়ে থাকবে।

দারিদ্র্য থেকে বলিউডে রাজত্ব: বর্ণময় এক জীবনসংগ্রাম

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরূড-জঞ্জিরায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নানা পাটেকরের। শৈশব ও কৈশোর চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর। সংসারের পেটের তাগিদে খুব অল্প বয়সেই তাঁকে মুম্বাইয়ের রাস্তায় চলচ্চিত্রের পোস্টার রঙ করার কাজ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে স্যার জে জে স্কুল অফ আর্টস থেকে কমার্শিয়াল আর্টসে ডিগ্রি নেওয়ার পর নাটকের মঞ্চে পা রাখেন তিনি।

প্রথম সিনেমা

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমায় পদার্পণ করলেও ১৯৮০-র দশকে তাঁর ক্যারিয়ারে বড় মোড় আসে। বিশেষ করে ‘পরিন্দা’ (১৯৮৯) ছবিতে খলনায়ক ‘আন্না সেঠ’-এর চরিত্রটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনয়ে তিনি খলনায়কের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবাতেও তিনি ছিলেন দৃষ্টান্ত, মহারাষ্ট্রের খরার কবলে পড়া কৃষকদের সাহায্যের জন্য গড়ে তুলেছিলেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’।

নানা পাটেকরের জীবনের সেরা ১০টি কালজয়ী সিনেমা

নানা পাটেকরের অনন্য অভিনয়ে সমৃদ্ধ সেরা ১০টি চলচ্চিত্র, যা তাঁকে অমর করে রাখবে:

১. পরিন্দা (১৯৮৯):আন্না শেঠের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।

২. ক্রান্তিবীর (১৯৯৪): ‘প্রতাপ তিলক’ চরিত্রে তাঁর তেজস্বী অভিনয় ও দেশাত্মবোধক সংলাপের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন।

দেখুন ভিডিও

৩. প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক (১৯৯১): নিজে পরিচালনার পাশাপাশি সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন।

৪. অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬): মানসিক ভারসাম্যহীন ও সন্দেহপ্রবণ স্বামীর চরিত্রে শিউরে ওঠার মতো কাজ।

৫. খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল (১৯৯৬): বধির ও মূক বাবার আবেগময় চরিত্রে দর্শকদের কাঁদিয়েছিলেন।

৬. তিরাঙ্গা (১৯৯২): রাজ কুমারের সঙ্গে তাঁর তীক্ষ্ণ ও রূঢ় সংলাপের লড়াই আজও চিরসবুজ।

৭. আব তক ছপ্পন (২০০৪): এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট সাধু আগাশের চরিত্রে আইকনিক উপস্থিতি।

৮. ওয়েলকাম (২০০৭): ‘উদয় শেট্টি’ চরিত্রে তাঁর কমিক টাইমিং আজও মিমে ও রিলসে রাজত্ব করে।

৯. রাজনীতি (২০১০): চাণক্য সদৃশ এক ধূর্ত রাজনীতিকের চরিত্রে সাবলীল কাজ।

১০. নটসম্রাট (২০১৬): মারাঠি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একজন অবসরপ্রাপ্ত নাট্যাভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয়কে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানা হয়।

নানা পাটকের চিরস্মরণীয় কিছু উক্তি ও সংলাপ

পর্দা এবং পর্দার বাইরে নানা পাটেকরের কথা সবসময়ই সরাসরি ও তীক্ষ্ণ হতো:

মানবধর্ম ও সম্প্রীতির বার্তা:

"ইয়ে হিন্দু কা খুন হাই, ইয়ে মুসলমান কা খুন হাই... বাতা ইসমে সে হিন্দু কা কৌন সা হাই অউর মুসলমান কা কৌন সা!" (ক্রান্তিবীর)

সাধারণ মানুষের ঘুম ভাঙাতে:

"আ গয়ে মেরে তামাশা দেখনে ওয়ালে..."* (ক্রান্তিবীর)

দেখুন ভিডিও

জনপ্রিয় কমেডি সংলাপ:

"ভগবান কা দিয়া সব কুছ হাই... দৌলত হাই, শোহরত হাই, ইজ্জত হাই!" (ওয়েলকাম)

সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোজা কথা:

"এক মচ্ছর আদমি কো হিজড়া বনা দেতা হাই!" (যশবন্ত)

নানা পাটেকার কেবল একজন অসামান্য অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর। তাঁর শারীরিক প্রয়াণ হলেও নিজের আইকনিক চরিত্র, কালজয়ী সংলাপ এবং নিঃস্বার্থ সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement