রুশ তেল কেনায় ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া? মার্কিন প্রতিনিধি সভায় পাশ খসড়া প্রস্তাব
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনার মাশুল গুনতে হতে পারে ভারতসহ বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে মস্কোর বড় শরিকদের। রাশিয়ার ওপর আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি করতে আমেরিকা প্রতিনিধি সভায় (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পেশ করা হলো একটি বিশেষ বিল।
India Faces 100% US Tariff Risk: রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনার মাশুল গুনতে হতে পারে ভারতসহ বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে মস্কোর বড় শরিকদের। রাশিয়ার ওপর আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি করতে আমেরিকা প্রতিনিধি সভায় (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পেশ করা হলো একটি বিশেষ বিল। যদি এই বিলটি চূড়ান্ত আইনি রূপ নেয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বসানোর ব্যাপক ক্ষমতার অধিকার এসে যাবে।
প্রাথমিক ভোটাভুটির পর বিল পাশ
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় বিলটি প্রাথমিক ভোটাভুটির বৈতরণী পার করে। 'লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬' শীর্ষক এই প্রস্তাবটি ২১৪-২১১ ভোটে প্রাথমিক অনুমোদন পায়। দুজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ায় এই বাধা সহজেই অতিক্রম করে বিলটি। গত মাসে মার্কিন সেনেটে বিপুল ভোটে (৮৬-১১) অনুমোদন পেয়েছিল প্রস্তাবটি। বুধবার প্রতিনিধি সভায় এর ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের ওপর ঝুঁকির কারণ
রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ খনিজ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। মস্কোর ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যে সমস্ত 'শ্যাডো ফ্লীট' বা গোপন জাহাজ তেল পরিবহন করছে, সেগুলোর পাশাপাশি রুশ শক্তি সম্পদের অন্যতম বৃহৎ পাঁচ ক্রেতা দেশকে কেন্দ্র করে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখা হয়েছে এই খসড়ায়। সরাসরি কোনো দেশের নাম না থাকলেও পরিমাণ বা ভলিউম অনুযায়ী ভারত ও চীন সরাসরি এই তালিকার শীর্ষে এসে পড়ছে। যদিও ওয়াশিংটন ইতিপূর্বে একাধিকবার এই বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বারবারই জানানো হয়েছে যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ ও ট্রাম্পের ক্ষমতা
বিলটি নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক কম তৈরি হয়নি। প্রতিনিধি সভার শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিক্সসহ বহু বিরোধী নেতা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, এটি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান না করে প্রেসিডেন্টকে এমন ঢালাও ক্ষমতা দেবে যার ভুল ব্যবহার বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। এই হারে অতিরিক্ত শুল্ক বসালে খোদ আমেরিকার বাজারেই পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেমোক্র্যাট পক্ষ থেকে শুল্ক সংক্রান্ত এই বিশেষ ধারাটি বাদ দেওয়ার সংশোধনী আনলেও তা খারিজ হয়ে যায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের পর বিলটি যদি পাশ হয়ে যায়, তবে তা প্রেসিডেন্টের সইয়ের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি সভার অধিবেশন মুলতবি হওয়ার ঠিক আগে এই বিলটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এটি শুধুমাত্র একটি খসড়া প্রস্তাবের স্তরেই রয়ে গেছে। আইন হিসেবে বলবৎ হওয়ার আগে পর্যন্ত ভারতের ওপর কোনো সক্রিয় ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক চালু হচ্ছে না। বর্তমানে সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের চূড়ান্ত ভোটাভুটির ফলাফলের ওপর।