US Green Card Rules Change Today: আজ থেকে আমেরিকার গ্রিন কার্ড নিয়মে বড় পরিবর্তন, নতুন পাবলিক চার্জ নীতির প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতীয়দের ওপর
আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার লড়াইয়ে যুক্ত থাকা অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (USCIS) তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) মূল্যায়নে নতুন ও কঠোর নীতিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে।
US Green Card Rules Change Today: আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার লড়াইয়ে যুক্ত থাকা অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (USCIS) তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) মূল্যায়নে নতুন ও কঠোর নীতিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) কর্তৃক ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই ইউএসসিআইএস তাদের অফিসিয়াল পলিসি ম্যানুয়াল হালনাগাদ করেছে। এই নতুন পদক্ষেপটি বাইডেন আমলের ২০২২ সালের নীতিকে বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসীদের নিজস্ব আর্থিক স্বাবলম্বিতার নীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন করদাতাদের টাকায় পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর যেন বিদেশি নাগরিকেরা নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন।
কী কী বদল আসছে
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবারভিত্তিক (Family-based) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক (Employment-based)—উভয় ধরনের গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের আর্থিক অবস্থা কঠোর নজরদারির আওতায় আসবে। বিশেষ করে মার্কিন স্থায়ী বসবাসের আবেদন তালিকায় শীর্ষে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ওপর এই নতুন বিধিনিষেধের বড় ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্ট্যাটাস' বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন মূল্যায়নের সময় খতিয়ে দেখবেন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভবিষ্যতে কখনো সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বা ‘পাবলিক চার্জ’ হয়ে উঠবেন কি না।
কোন পাঁচটি বিষয়ে জোর
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা মূল পাঁচটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করবেন। এগুলো হলো—আবেদনকারীর বয়স, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় কর্মদক্ষতা এবং তার সামগ্রিক সম্পত্তি, আর্থিক সম্পদ ও বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা। এছাড়া, আবেদনকারীর জন্য জমা দেওয়া ‘আফিডেভিট অফ সাপোর্ট’ (Form I-864)-ও কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হবে, যেখানে কোনো স্পন্সর আইনিভাবে সেই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করে থাকেন।
নতুন পাবলিক চার্জ নীতি
এই নতুন পাবলিক চার্জ নীতির আওতায় আনা হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, পিতামাতা, বিধবা/বিপত্নীক, বিবাহিত ও অবিবাহিত ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনদের। পাশাপাশি স্থায়ী অধিবাসীদের (LPR) পরিবার এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা বিভাগের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মী, উচ্চমানের ডিগ্রিধারী পেশাদার, দক্ষ কর্মী, বিনিয়োগকারী, ধর্মীয় কর্মী ও বিদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটরাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে মানবিক বিষয় বিবেচনা করে শরণার্থী, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, বিশেষ অভিবাসী অপ্রাপ্তবয়স্ক, অস্থায়ী সুরক্ষিত স্থিতি (TPS) পাওয়া ব্যক্তি এবং আফগান, ইরাকি, কিউবান ও হাইতিয়ানদের মতো কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের এই কঠোর নিয়মের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কতটা প্রভাব
সামগ্রিকভাবে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতি অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা প্রমাণের বিষয়টি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। গ্রিন কার্ড নিশ্চিত করতে এখন থেকে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার পাশাপাশি প্রতিটি আবেদনকারীকে নিজের আর্থিক আত্মনির্ভরশীলতার শক্ত প্রমাণ তুলে ধরতে হবে।