ভারতে ব্রিকস সম্মেলন শেষে গুরুতর অসুস্থ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অসুস্থ, চিকিৎসকের নির্দেশে জনসমক্ষে আসা বন্ধ
ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দেশে ফেরার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।
Cyril Ramaphosa illness BRICS summit: ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দেশে ফেরার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। প্রেসিডেন্সির দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপ্রধানকে তাঁর চিকিৎসকদের দল কঠোরভাবে বিশ্রামে থাকার এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছে। চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে আপাতত তিনি সমস্ত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি ও সরকারি অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকবেন।
ভারত থেকে দেশে ফিরে গুরুতর অসুস্থ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির সফর শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। ভারতে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তবে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করেন। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্সির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, "ব্রিকস সম্মেলন শেষে ভারতে থেকে ফেরা প্রেসিডেন্ট রামাফোসাকে চিকিৎসকরা পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরমর্শ দিয়েছেন।" তবে তিনি ঠিক কী ধরণের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বা কতদিন জনসমক্ষে আসতে পারবেন না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপ প্রেসিডেন্টও অসুস্থ!
প্রেসিডেন্সির তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিগুলোতে এখন থেকে পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সঙ্গে সেদেশের উপ-প্রেসিডেন্ট পল মাশাটাইলেও সম্প্রতি এক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসাধীন ও বিশ্রামে রয়েছেন। ফলে প্রেসিডেন্ট ও উপ-প্রেসিডেন্ট উভয়ের অনুপস্থিতিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব ও বিভিন্ন কর্মসূচির ভার আপাতত অন্যান্য মন্ত্রীদের কাঁধেই বর্তাচ্ছ।
প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে রোনাল্ড লামোলা
অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) আসন্ন অধিবেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা। প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতেই তিনি এই দায়িত্ব সামলাবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এই আবহেই লামোলাকে জাতিসংঘে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
শারীরিক অবস্থা কতটা আশঙ্কাজনক
প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে আপাতত উদ্বেগজনক কিছু প্রকাশ করা না হলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক মহলে প্রেসিডেন্টের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে।