President Trump: 'জেলেনস্কির চেয়ে পুতিন অনেক বেশি শান্তি চান', দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
আরও একবার রাশিয়াকর দিকে ঝুঁকলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সম্ভাব্য জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
President Trump: আরও একবার রাশিয়াকর দিকে ঝুঁকলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সম্ভাব্য জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তুলনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি চুক্তিতে সই করার বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহী। ওহিও অঙ্গরাজ্যে এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে রওনা হওয়ার আগে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প সাফ জানান, “আমার মনে হয়, জেলেনস্কির চেয়ে পুতিন চুক্তি করার বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।” ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার পক্ষ থেকে লাগাতার হামলার অভিযোগ ওঠার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
‘আমি বলেছি বলেই দুই দেশ রাজি হয়েছে’
জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ বন্ধ রাখতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি রাশিয়া মেনে নিয়েছে কি না—সাংবাদিকরা তা জানতে চাইলে ট্রাম্প দাবি করেন, দুটি দেশই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও মস্কোর পক্ষ থেকে পুতিন প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেননি বলে একজন সাংবাদিক ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তারা দুজনই এটা চায়। তারা একটা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় কিন্তু ঠিক কীভাবে করবে তা বুঝতে পারছে না। তবে আমরা তাদের চুক্তি করাতে বাধ্য করব।”
জেলেনস্কিকে পাল্টা চাপ
রাশিয়াকে কীভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাবেন,এই প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূল চাপটি জেলেনস্কির দিকেই ঠেলে দেন। ট্রাম্পের কথায়, “এখানে যা ঘটছে তা হলো, পুতিন চুক্তি করতে প্রস্তুত, এখন আমাদের জেলেনস্কিকে চুক্তির টেবিলে রাজি করাতে হবে।”
আর কী দাবি ট্রাম্পের
কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা প্রকাশ্য সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি চালিয়ে যান যে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেছে। এর আগে তাঁর দেওয়া ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে ধরলে তিনি যুক্তি দেন, “তারা সম্মত হয়েছে, জানেন কেন? কারণ আমি বলেছি যে আপনারা রাজি হন, সেই জন্যই। আমি বলেছি বলেই তারা রাজি হয়েছে এবং এই বিষয়টি এবার নিষ্পত্তি করতেই হবে।”
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও রাশিয়া ইউক্রেনের একাধিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নিয়ম ভাঙার দায় শুধু রাশিয়ার একার নয়; উভয় পক্ষই শর্ত লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “চলতি মাসেই এই যুদ্ধে প্রায় ৩২,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই কমবয়সী সেনা। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হাস্যকর বিষয়। তাই দুটি দেশের অবিলম্বে এক জায়গায় বসে এটি সমাধান করা উচিত।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এই যুদ্ধ টানা চলছে। গত চার বছরেরও বেশি সময়ে দুটি দেশই বহু সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে তিনি এই যুদ্ধ থামাতে সক্ষম, যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের রূপরেখা কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।