Nepal Flash Floods: নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০, এখনও নিখোঁজ ৭৬১ জন

চিন সীমান্তবর্তী নেপালের নদী অববাহিকায় আচমকা হড়পা বান ও ভয়াবহ কাদা-ধসের তাণ্ডবে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৭৬১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের ভোট কোশি এবং ত্রিশূলি নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এই আকস্মিক বন্যা ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে।

Nepal Flash Floods. (Photo Credits:X)

Nepal Flash Floods: চিন সীমান্তবর্তী নেপালের নদী অববাহিকায় আচমকা হড়পা বান ও ভয়াবহ কাদা-ধসের তাণ্ডবে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৭৬১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের ভোট কোশি এবং ত্রিশূলি নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এই আকস্মিক বন্যা ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে।

ভারত ও চিনের তিব্বত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শহরে বন্যার জলে ঢুকে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও পরিকাঠামো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধসে (Glacial Collapse) নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই জমে থাকা বিশাল জলরাশি ও ধ্বংসাবশেষ একযোগে প্লাবিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে তীব্র বিপর্যয় ডেকে আনে।

মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা

নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিতভাবে ১৫৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে এবং অন্তত ৪১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন নেপাল পুলিশের ২৮ জন কর্মী।

দেখুন ভিডিও

অন্যান্য উৎস মিলিয়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট মৃতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের তালিকায় প্রায় ৪৬৮ জন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯৩ জন বিদেশী নাগরিক এবং ৭৫ জন নেপালি রয়েছেন। পুলিশকর্মী ও স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে নিখোঁজের মোট সংখ্যা প্রায় ৭৬১ জন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিখোঁজের তালিকায় বহু বিদেশী নাগরিক

উদ্ধারকারী সংস্থার তালিকায় বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকের নাম রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৪ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ বলে খবর পাওয়া গেছে। ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রায় ৩০টি দেশের পর্যটকরা এই দুর্যোগের মুখে পড়েছেন।

তিব্বতে ক্ষয়ক্ষতি

চীনের তিব্বত অঞ্চলেও এই আকস্মিক বন্যার প্রভাব পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা শিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বত অংশে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো বিদেশী পর্যটক আছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভূমিকম্প নয়, বিপর্যয় হিমবাহ ধসের কারণে

প্রাথমিকভাবে ৪.৪ তীব্রতার ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হলেও ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) ভূকম্পন সংক্রান্ত ডেটা ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশালাকার হিমবাহ ধস ছিল। হিমবাহ ও পাথর ধসে নদীর স্রোত আটকে যাওয়ায় এই অভাবনীয় বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।

আন্তর্জাতিক সাহায্যের আশ্বাস

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডা নেপাল সরকারকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, চিকিৎসাসামগ্রী এবং জরুরী ফিল্ড কেয়ার টিম ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement