যৌন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিককে খুনের অপরাধে তরুণীর ১২ বছরের জেল
যৌন সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক তরুণীর সাজা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালো মালয়েশিয়ার একটি আপিল আদালত।
Woman Gets 12 Years Sentence for Stabbing Boyfriend to Death Over Sex Demand: যৌন সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক তরুণীর সাজা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালো মালয়েশিয়ার একটি আপিল আদালত। ২০২২ সালের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটিতে নিম্ন আদালত অভিযুক্ত তরুণীকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে উচ্চ আদালত সম্প্রতি সেই সাজা বাড়িয়ে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।
কী বললেন বিচারপতিরা
মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুর একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি পুনরায় আদালতে উত্থাপিত হলে সাজা বৃদ্ধির রায় দেয় তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি আপিল বেঞ্চ। জুরি বোর্ডের অন্যতম সদস্য বিচারপতি এভরোল ম্যারিয়েট পিটার্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধের তীব্রতার তুলনায় নিম্ন আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী শাস্তি অত্যন্ত শিথিল বা নমনীয় ছিল।
হোটেল রুমে বিবাদ ও মারামারি-রক্তারক্তি
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জোহর বাহরুর জলান অস্টিন হাইটস এলাকার একটি হোটেলে ১৯ বছর বয়সী অভিযুক্ত তরুণী (আদালতে যাকে 'শাই' নামে চিহ্নিত করা হয়েছে) এবং তাঁর ২৯ বছর বয়সী প্রেমিক একসাথে ওঠেন। তাঁরা দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার রাতে তরুণীর প্রেমিক তাঁর কাছে শারীরিক সম্পর্কের দাবি জানান। তবে তরুণী ঋতুস্রাবের কারণ দেখিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরেই দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, উত্তেজনার এক পর্যায়ে যুবকটি একটি ধারালো ছুরি বের করে তরুণীকে ভয় দেখাতে ও হুমকি দিতে শুরু করেন।
২৮ বার ছুরিকাঘাত ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
ছুরিটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সংঘাতের সময় তরুণী প্রেমিকের কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে তাঁর বুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিহতের শরীরে প্রায় ২৮টি গুরুতর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের (Culpable Homicide) ধারায় অভিযুক্ত হন তরুণী। সাজা বৃদ্ধির রায়ে আপিল আদালত মন্তব্য করে, অপরাধীর কম বয়সকে নিম্ন আদালত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সহানুভূতি দিয়ে বিবেচনা করেছিল। কিন্তু অপরাধের ধরণ ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সঠিক বিচার সুনিশ্চিত করতেই শাস্তির মেয়াদ প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।