Flydubai: ককপিট হামলায় ১৫০ যাত্রী-সহ বিমান ভূপাতিত করার প্রস্তুতি কেন নিয়েছিল ইজরায়েল

গত সপ্তাহে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) একটি যাত্রীবাহী বিমানে এক ওমানি কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ককপিট কুড়াল (Crash Axe) দিয়ে আক্রমণ করার পর, ১৫০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি যাত্রী থাকা সত্ত্বেও বিমানটি ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইসরায়েল। নজিরবিহীন এই ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IAF) যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়।

Flydubai (Photo Credits: Reuters).

Flydubai: গত সপ্তাহে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) একটি যাত্রীবাহী বিমানে এক ওমানি কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ককপিট কুড়াল (Crash Axe) দিয়ে আক্রমণ করার পর, ১৫০ জনেরও বেশি ইজরায়েলি যাত্রী থাকা সত্ত্বেও বিমানটি ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইজরায়েল। নজিরবিহীন এই ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IAF) যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়।

ঘটনার বিবরণ: আকাশে ১,৪০০ ফুট পতন

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইট চলাকালীন ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি (Hammam Al-Hammami) হুট করেই প্রধান চালক, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের (Smit Machchhar) ওপর ককপিটের জরুরি কুড়াল দিয়ে হামলা চালান।

ককপিটে হামলা: আক্রমণের শিকার হয়ে প্রধান পাইলট রক্তাত্ব হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিমানের তীব্র পতন: হাতাহাতির প্রভাবে মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি আকাশে প্রায় ১,৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

জরুরি অবস্থা জারি: বিমানটির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ইজরায়েল তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় এবং উচ্চ-সুরক্ষামূলক প্রোটোকল চালু করে।

পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে বিমানে থাকা ইজরায়েলি যাত্রী এবং কেবিন ক্রুরা মিলে কো-পাইলট আল-হামামিকে কাবু করেন। বিমানটি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

কেন বিমানটি ভূপাতিত করতে প্রস্তুত ছিল ইজরায়েল?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-কে দেওয়া দুই ইজরায়েলি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী , ৯/১১ স্টাইলের কোনো আত্মঘাতী হামলা ঠেকানোর জন্য ইজরায়েলের পূর্ব-নির্ধারিত প্রোটোকল রয়েছে।

হাই-ভ্যালু টার্গেটের আশঙ্কা: বিমানটি যদি কোনোভাবে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা তেল আবিবের বিখ্যাত আজরিয়েলি টাওয়ারের (Azrieli Buildings) ওপর আছড়ে পড়ত, তবে প্রাণহানি হতো অনেক বেশি।

ইজরায়েলের নীতি: ইজরায়েলের নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী, আকাশে থাকা কোনো বিমান যদি বিপজ্জনক বা হাইজ্যাকড প্রমাণিত হয়, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেটি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে।

ফাইটার জেটের ছায়াবৃত্ত: ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বিমানটি চিহ্নিত করতে জর্ডানের আকাশসীমার কাছাকাছি চলে যায়। তবে বিমানটি সৌদি আরবের দিকে মোড় নেওয়ার পর ইজরায়েল তাদের ফাইটার জেট ফিরিয়ে নেয় এবং সৌদি আরব নিজ দেশের বিমান বাহিনীকে সতর্ক করে স্কর্ট করে নিয়ে যায়।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য: হামলাটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত

বর্তমানে অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলট আল-হামামি সংযুক্ত আরব আমিরাতে দ্বিতীয় দফায় জেরার মুখে রয়েছেন। প্রথম দফায় তাকে সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে অংশ নিয়েছে।

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্যা জেরুজালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী:

1. পূর্ব পরিকল্পিত ছক: আল-হামামি তদন্তকারীদের জানান, তিনি বহু আগে থেকেই ইজরায়েলগামী এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

2. ফ্লাইদুবাই বাছাইয়ের কারণ: "আমি সব এয়ারলাইন্সে আবেদন করেছিলাম এবং খেয়াল করি যে কোনগুলো তেল আবিবে যায়। সে কারণেই আমি ফ্লাইদুবাই বেছে নিই," স্বীকার করেন অভিযুক্ত কো-পাইলট।

3. রেকি যাত্রা: বিমান চালক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগেও তিনি পর্যটক হিসেবে ইজরায়েল সফর করে গেছেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ওমান ও ইজরায়েলের মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। নিয়ম অনুযায়ী, যে সকল দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, শুধুমাত্র সেই দেশের পাসপোর্টধারী পাইলটরাই ইসরায়েলে বিমান নিয়ে অবতরণ করতে পারেন। এই কঠোর নিয়ম থাকা সত্ত্বেও একজন ওমানি পাইলট কীভাবে তেল আবিবগামী ফ্লাইটের ক্লিয়ারেন্স পেলেন, তা নিয়ে ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা 'শিন বেট' (Shin Bet) এবং 'মোসাদ'-এর ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইজরায়েলি সিভিল অ্যাভিয়েশন বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement