ড্রোন দিয়ে নজর ঘুরিয়ে মিসাইল হামলা! সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষায় বড়সড় প্রশ্ন
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের বহু বিলিয়ন ডলার খরচ করে গড়ে তোলা অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
Houthi Drones Attack Saudi Arabia Airport: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের বহু বিলিয়ন ডলার খরচ করে গড়ে তোলা অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। প্রায় ৬২০ মাইল (১০০০ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে কীভাবে সৌদি বিমানবন্দরের ওপর মিসাইল আঘাত হানল এবং কেন কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া গেল না, তা নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রিয়াদ।
হুথিদের কৌশল
দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অত্যন্ত সুকৌশলী যুদ্ধপদ্ধতি ব্যবহার করেছে হুথিরা। প্রথমে তারা একদল ড্রোন পাঠিয়ে সৌদি আরবের মূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত বা নিষ্ক্রিয় করে তোলে। এরপর সেই ফাঁক গলে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো সরাসরি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ধেয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই পুরো হামলার সময় সৌদি রাডার সিস্টেমে কোনো প্রকার আগাম সতর্কবার্তা পর্যন্ত বাজেনি।
দেখুন ভিডিও
পেট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর কেন ব্যর্থ হলো
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলায় ব্যবহৃত কিছু ওয়ারহেড বা যুদ্ধাস্ত্র মাঝআকাশেই দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম। আর এই বিশেষ কৌশলটিই মার্কিন প্রযুক্তির বিখ্যাত 'পেট্রিয়ট' (Patriot) ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ব্যয়বহুল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো দ্রুতগামী ও দিক পরিবর্তনকারী লক্ষ্যবস্তুগুলোকে সবসময় সফলভাবে প্রতিহত করতে পারে না।
দেখুন ভি়ডিও
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সতর্কবার্তা
এই ঘটনা কেবল সৌদি আরব নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্যও গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত তেল ক্ষেত্রগুলো সুরক্ষায় এই একই 'পেট্রিয়ট' সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমে ড্রোন দিয়ে শত্রু পক্ষের নজর ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার এই কৌশলটি সরাসরি ইরানের রণকৌশলের অংশ।
ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষায় নতুন কৌশল কী হতে পারে?
ইয়েমেনের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি সস্তা ড্রোন এবং দিক পরিবর্তনকারী ওয়ারহেডের মাধ্যমে উন্নত পেট্রিয়ট সিস্টেমকে পরাস্ত করতে পারে, তবে আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিটি ড্রোনের পেছনে ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লক্ষ ডলারের একটি করে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছোঁড়া কোনো দীর্ঘমেয়াদী বা টেকসই সমাধান হতে পারে না। এই আর্থিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এখন লেজার প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় কামান (Guns) এবং উন্নত কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেমের মতো সস্তা ও বহস্তরী (Multi-layered) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। অন্যথায় আধুনিক আকাশযুদ্ধে পরাশক্তিগুলোর পতন ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।