Elon Musk: ভারতে স্টারলিংক নিয়ে ফের সোচ্চার মাস্ক, এবার আরও বিস্ফোরক
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা 'স্টারলিংক' চালুর বিষয়ে ফের সোচ্চার হলেন স্পেসএক্স (SpaceX)-এর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতে উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে আদতে লাভ হবে দেশের সাধারণ গ্রাহকদেরই
Elon Musk: ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা 'স্টারলিংক' চালুর বিষয়ে ফের সোচ্চার হলেন স্পেসএক্স (SpaceX)-এর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতে উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে আদতে লাভ হবে দেশের সাধারণ গ্রাহকদেরই, কারণ তাঁরা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ (আগে বলা হত টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক তাঁর পরিষেবা বন্ধের দাবিকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ অম্বানির সমর্থকদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি তাঁদের 'ইন্টারনেট শিলস' (পেইড প্রচারক) বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, তারা স্টারলিংক সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখছেন।
অম্বানি সমর্থকদের ‘পরস্পরবিরোধী’ যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন মাস্কের
গত ১০ অক্টোবর দেওয়া ওই পোস্টে মাস্ক বলেন, সমালোচকদের একদল দাবি করছেন স্টারলিংক ভারতের সস্তা ইন্টারনেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না, আবার অন্যদল দাবি করছে স্টারলিংক এলে দেশীয় সংস্থাগুলি বড় ধাক্কা খাবে। এই দুই যুক্তিকে স্ববিরোধী আখ্যা দিয়ে মাস্ক বলেন, প্রতিযোগিতা বাড়লে অম্বানির মুনাফা কিছুটা কমতে পারে, তবে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে না। উল্টে বেশি বিকল্প পাওয়ায় লাভবান হবেন ভারতের সাধারণ মানুষ। তিনি আরও স্বীকার করেন যে, ভারতে গ্রাহক টানতে হলে স্টারলিংককে অবশ্যই সাশ্রয়ী মূল্যে পরিষেবা দিতে হবে। কারণ পরিষেবা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হলে ভারতীয় গ্রাহকরা তা গ্রহণ করবেন না।
ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবা ও স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড
ম্যাচ ৩৩ ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের প্রধান অ্যারন বার্নেটের একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক এই মন্তব্য করেন। বার্নেট প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ভারতে ইন্টারনেট সত্যিই কতটা সস্তা। তাঁর মতে, ভারতে মোবাইল ডাটা সস্তা হলেও ফাইবার বা ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের বিস্তার এখনও বেশ সীমিত। তাই একটি সাশ্রয়ী বিকল্প এলে তা আরও বেশি পরিবারকে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।
লাইসেন্স মিললেও সুরক্ষার ছাড়পত্রের অপেক্ষা
স্টারলিংক ভারতে তাদের ব্যবসা শুরু করতে চাইলেও বেশ কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কেন্দ্রীয় নিয়মের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে সরকার কোনো একচেটিয়া আধিপত্য মেনে নেবে না। মন্ত্রী জানান, রিলায়েন্স জিও, ওয়ানওয়েব (OneWeb) এবং স্টারলিংক, এই তিন সংস্থাই খসড়া লাইসেন্স বা অনুমোদন পেয়েছে এবং আমাজনও এই বাজারে আসতে আগ্রহী। তবে প্রতিটি সংস্থাকেই বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার আগে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তাবলী ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকার দ্রুতই এর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও মূল্য নির্ধারণের ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করবে।
ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঘটে গেলে বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যেখানে প্রথাগত ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, তারা সহজেই দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পাবেন। তবে ভারতে স্টারলিংক কতটা সফল হবে তা নির্ভর করবে স্যাটেলাইট যন্ত্রাংশের খরচ এবং মাসিক রিচার্জ প্ল্যানের দাম কত রাখা হচ্ছে তার ওপর। কারণ ভারতের টেলিকম বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেখানে সুলভ মূল্যে পরিষেবা দেওয়া অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হতে পারে।