America Party: মাস্কের নতুন দল আমেরিকা পার্টির প্রথম সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু, ট্রাম্প শিবিরে ফাটলের আভাস স্পষ্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের রাজনৈতিক দল খোলার কথা ঘোষণা করেছেন দুনিয়ার ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। দেশের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই নিজের রাজনৈতিক দল 'আমেরিকা পার্টি'-র আত্মপ্রকাশ করেছেন মাস্ক।
America Party: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (President Donald Trump)-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের রাজনৈতিক দল খোলার কথা ঘোষণা করেছেন দুনিয়ার ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক (Elon Musk)। দেশের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই নিজের রাজনৈতিক দল 'আমেরিকা পার্টি'-র আত্মপ্রকাশ করেছেন মাস্ক (Musk)। নিজের এক্স প্ল্য়াটফর্মে 'আমেরিকা পার্টি' প্রতিষ্ঠার ঘোষণার পর মাস্ক এবার প্রথম পার্টি কংগ্রেসের কথাও জানালেন। অনেকটা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কায়দায় টেসলা সিইও মাস্ক তাঁর নতুন দলের পার্টি কংগ্রেস কোথায়, কবে হবে সেই বিষয়টা আম জনতার কাছেই রেখে দিলেন। এক্স প্ল্যাটফর্মে আম জনতার মতামতের ওপরেই ঠিক হবে মাস্কের 'আমেরিকা পার্টি'-র প্রথম সম্মেলন কোথায়, কবে হবে। ট্রাম্পের 'বিগ বিউটফুল বিল'পাশ হওয়ার পরই মাস্ক নিজের দল খুললেন। মার্কিন মুলুকে চিরকালই কেবলমাত্র দুটি দলই ক্ষমতায় আসে। কয়েকজন চেষ্টা করলেও আমেরিকায় কখনও রিপাবলিকান বা ডেমোক্রাটদের বাইরে কোনও তৃতীয় রাজনৈতিক দল হালে পানি পাইনি। দুনিয়ার ধনীতম মানুষ হলেও মাস্কও যে তেমন সুবিধা করতে পারবেন না সেটা বলছেন সে দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পকে সবচেয়ে বড় সমস্য়া ফেলতে তৈরি হচ্ছেন মাস্ক
বুশ- ট্রাম্পদের রিপাবলিকান পার্টি, তো কখনও আবার ওবামা-ক্লিন্টন-বাইডেনদের ডেমোক্রাট পার্টি। এই দুটি দলের বাইরে আমেরিকায় আর কখনও কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে পারেনি। দুই দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে ভেঙে মাস্ক ঘোষণা করেছেন, এবার তাঁর দল 'আমেরিকা পার্টি'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসবে। আগামী বছর দেশের ২০২৬ মধ্যমেয়াদী নির্বাচন (U.S. Midterm Election 2026)-এ লড়বে মাস্কের আমেরিকা পার্টি। মূলত রিপাবলিকান পার্টির নেতা, কর্মী-সমর্থকরাই মাস্কের দলে যোগ দিতে চলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, নতুন দল খুলে ট্রাম্পের শিবির ভাঙার পথে মাস্ক। মনে করা হচ্ছে রিপাবলিকান পার্টির ৩জন সেনেট সদস্য ও ৫ জন হাউস অফ রিপ্রেজনটেটিভসে মাস্কের দলে যোগ দেবেন। রিপালবিকান পার্টিতে ট্রাম্প বিরোধীদের একটা বড় অংশ মাস্কের পিছনে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মাস্ক নতুন দল খোলায় ট্রাম্প শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ বিগ বিউটফুল বিল সেনেটে ৫১-৫০ (টাইব্রেকার ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোটে জয়), ও হাউস অফ রিপ্রেজনটেটিভসে ২১৮-২১৪ ভোটে পাশ হয়। সেনেটে মাত্র ১টি ও হাউসে ৩টি ভোট এদিক ওদিক হয়ে গেলেই ট্রাম্পের বিল আটকে যেত। এমন সময় মাস্কের পার্টিতে রিপাবিলকান পার্টির কেউ যোগ দিলেই ট্রাম্প বেজায় অস্বস্তিতে পড়বেন। একটা কথা নিশ্চিত, ডেমোক্রাট শিবিরের কেউ মাস্কের 'আমেরিকা পার্টি'তে যোগ দেবেন না।
আমেরিকা পার্টির প্রথম সম্মেলনে মাস্কের ঘোষণা
ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের যুদ্ধ শুরু হয়েছে
'ওয়ান বিগ বিউটফুল' বিলের বিরোধিতা করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তোপ দেগেছিলেন তাঁর একসময়ের প্রিয়তম বন্ধু মাস্ক। টেলসা সিইও-র যুক্তি হল, এই বিলের ফলে মার্কিন সরকারের কোষাগারে ৩ ট্রিলিয়নের আর্থিক বোঝা তৈরি হবে, আর দেশ দেউলিয়ার পথে এগিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পিছনে মাস্কের রেকর্ড অর্থের অনুদান বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে মাস্ককে অনেক কিছু দিয়ে তুষ্ট করেছিলেন। কিন্তু 'বিগ বিউটফুল বিল' ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্কটা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। নতুন দল খুললে মাস্কের সব কোম্পানির ওপর থেকে সরকারি ভর্তুকি তুলে দেওয়া, কড়া পদক্ষেপ নেওয়া, এমনকি তাঁকে আমেরিকা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।