Eiffel Tower Shut Down: প্যারিসে হিন্দু প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনে বিতর্ক, সাময়িক বন্ধ আইফেল টাওয়ার!

প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে আড়ালে রাখার অভিযোগে কর্মীদের কর্মবিরতি ও তীব্র প্রতিবাদের জেরে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই স্মৃতিসৌধটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

Eiffel Tower (Photo Credits: Pixabay)

Eiffel Tower Shut Down: প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে আড়ালে রাখার অভিযোগে কর্মীদের কর্মবিরতি ও তীব্র প্রতিবাদের জেরে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই স্মৃতিসৌধটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিএপিএস (BAPS) নামক একটি হিন্দু ধর্মীয় সংস্থার প্রায় একশ জন সদস্যের বিশেষ সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের বসানো এবং 특정 এলাকায় নারী কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লিঙ্গবৈষম্যমূলক এই আচরণের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে জরুরি বৈঠকে বসেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে প্যারিস প্রশাসন অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও কর্মীদের ক্ষোভ

ফ্রান্সের প্যারিস শহরতলিতে নতুন একটি হিন্দু মন্দির উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে আসা বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বaminarায়ণ সংস্থা (বিএপিএস)-এর ১০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল শনিবার আইফেল টাওয়ারে যায়। ইউনিয়ন প্রতিনিধি ডায়ান দাভোন জানিয়েছেন, এই সফর চলাকালে নারী কর্মীদের তাঁদের কাজের জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং তাঁদের স্থানে পুরুষ কর্মী নিয়োগ করা হয়। এমনকি কিছু এলাকায় নারীদের যাতায়াতও সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তথ্যসূত্র এখানে-রিপোর্ট

লিঙ্গভিত্তিক এমন নির্দেশের প্রতিবাদে সোমবার সকালে কর্মীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে মূল ফটকে "কার্যকরী কারণে বিলম্ব" শীর্ষক নোটিশ ঝুলিয়ে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের ভুল স্বীকার ও প্যারিস প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

আইফেল টাওয়ার পরিচালনকারী সংস্থা 'সেটে' (SETE) স্বীকার করেছে যে প্রতিনিধিদলটি মহিলাদের সঙ্গে মেলামেশা বা মিথস্ক্রিয়া সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল। পরিচালন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানায় যে, এই জাতীয় বৈষম্যমূলক শর্ত মেনে নেওয়া মোটেও উচিত হয়নি এবং এটি প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থী।

প্যারিসের মেয়রের নির্দেশ: প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার ঘটনাটিকে "অগ্রহণযোগ্য" আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান এবং সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ফরাসি আইনপ্রণেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ফরাসি সংস্কৃতি ও আইনে নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত এবং কোনো দর্শনার্থীর অনুরোধে লিঙ্গ সমতায় আপস করা সম্ভব নয়।

বিএপিএস (BAPS)-এর বিবৃতি

বিতর্কের মুখে বিএপিএস-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্যান্য সাধারণ দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতেই আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগেই আলোচনার মাধ্যমে এই সফরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কাউকে আটকানো বা সরানোর মতো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না দাবি করে সংস্থাটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ ও আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement