Trump Drone tariffs: ড্রোনে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প, সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে চিন, কিন্তু কেন

ড্রোন ও ড্রোন যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভারী শুল্ক (Tariff) আরোপের নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ড্রোন উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহিত করতে এবং বিদেশি ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে।

US President Donald Trump (Photo Credits: X/@TrumpTruthOnX)

Trump Drone Tariffs: ড্রোন ও ড্রোন যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভারী শুল্ক (Tariff) আরোপের নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ড্রোন উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহিত করতে এবং বিদেশি ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নতুন পদক্ষেপে বিশ্ব ড্রোন বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী চীন সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে।

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নতুন শুল্ক নীতি

মার্কিন প্রশাসন এই সিদ্ধান্তকে দেশের 'জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ' হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ কমার্স বা বাণিজ্য বিভাগের একটি বিশেষ তদন্ত রিপোর্টে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ও আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেমের (UAS) ওপর মাত্রাতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল। বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ডেটা সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ড্রোনের সংখ্যা দেশের মোট চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ট্যারিফ কাঠামো?

ড্রোনের আকার, ওজন এবং প্রযুক্তির সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে নতুন শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে:

১০০ শতাংশ শুল্ক: ২৫ কেজির বেশি ওজনের ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং বা অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রযুক্তিযুক্ত ড্রোন, ডকিং স্টেশন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ওপর সরাসরি ১০০% শুল্ক বসানো হয়েছে।

২৫ শতাংশ শুল্ক: সাধারণ বাণিজ্যিক এবং বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত ছোট ড্রোন, যেগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি নেই, সেগুলোর ওপর ২৫% শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

মার্কিন সহযোগীদের জন্য বিশেষ ছাড়:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বন্ধু দেশকে কম শুল্কের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিচটেনস্টাইন এবং তাইওয়ান থেকে আসা অনুমোদিত ড্রোনে ১৫% শুল্ক থাকবে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য (UK) থেকে আসা ড্রোনে শুল্ক থাকবে মাত্র ১০%, যদি সেগুলোর হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের বড় অংশ যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

কেন চিনে পড়বে সবচেয়ে বড় প্রভাব?

আন্তর্জাতিক ড্রোন বাজারে বর্তমানে চীনা প্রস্তুতকারকদের দাপট সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শেনজেনভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম ড্রোন প্রস্তুতকারক সংস্থা 'ডিজেআই' (DJI) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ও বাণিজ্যিক ড্রোন বাজারের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন যে, চীনা ড্রোনের মাধ্যমে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্পর্শকাতর অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সংঘাত তুঙ্গে উঠেছে। গত সপ্তাহে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ড্রোন রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল এবং ৬টি আমেরিকান সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। ট্রাম্পের এই ১০০% শুল্ক সেই পদক্ষেপেরই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নিয়ম?

ট্রাম্প নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করার ২১ দিন পর, অর্থাৎ **৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬** থেকে নতুন শুল্কের অধিকাংশ নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। তবে তুলনামূলক কম সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ এবং পেন্টাগন থেকে বিশেষ ছাড়প্রাপ্ত কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে ছয় মাসের (১৮০ দিন) সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য এই নীতির মাধ্যমে বিদেশি ড্রোন বর্জন করে মার্কিন সংস্থাসমূহকে দেশের মাটিতেই উৎপাদন বাড়াতে বাধ্য করা। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, রাতারাতি এই শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন বাজারে ড্রোনের দাম অনেকটাই বেড়ে যাবে এবং যেসব মার্কিন ব্যবসা চীনা ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, তারা স্বল্পমেয়াদে বড় ধরণের জোগান সংকটে পড়তে পারে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement