Pakistan Hindu Temple Demolition: পাকিস্তানে শতবর্ষ প্রাচীন হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ভারতের

পাকিস্তানে শতবর্ষ প্রাচীন হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাল ভারত। গত বুধবারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) পক্ষ থেকে ঘটনার কড়া সমালোচনা করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

MEA spokesperson Randhir Jaiswal (Photo Credits: ANI)

Pakistan Hindu Temple Demolition: পাকিস্তানে শতবর্ষ প্রাচীন হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাল ভারত। গত বুধবারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) পক্ষ থেকে ঘটনার কড়া সমালোচনা করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। পাঞ্জাব প্রদেশের এই ঐতিহাসিক স্থানটি ভেঙে ফেলার ঘটনাকে একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় অপরাধ বলে আখ্যা দিয়ে ইসলামাবাদকে অবিলম্বে ঘটনার একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দিল্লি।

ঘটনার পটভূমি ও পাকিস্তানের উদাসীনতা

পাকিস্তান প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোवाल জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত ছিল এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি। এটি অন্তত ১২৫ বছরের পুরনো বলে দাবি স্থানীয় অলঙ্কৃত সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির। অভিযোগ উঠেছে, গত ২১ আগস্ট ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থানগুলির সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং তাদের এই উদাসীনতা চরম উদ্বেগের বিষয়।

নিন্দা জানিয়ে ভারতের বিবৃতি

>

মাদ্রাসার জমি সম্প্রসারণের অভিযোগ

মন্দির ধ্বংসের পেছনে কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী এবং পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টির অভিযোগ, পাশের একটি মাদ্রাসার জমি বড় করার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঐতিহাসিক এই হিন্দু মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ETPB), যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে, তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক প্রবল বৃষ্টির কারণেই মন্দিরের পুরানো অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু তাদের এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। তারা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রণালয়ের কড়া বার্তা

ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:

অবিলম্বে এই ঘটনার একটি দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করতে হবে।

দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের জীবন, সংস্কৃতি ও তাদের উপাসনালয়ের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পাকিস্তান সরকারকে নিতে হবে।

সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থান আক্রমণ বা তা দখল করার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মন্দিরে হামলা ও জমি দখলের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলেছে ভারত। নারোওয়ালের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও ইসলামাবাদের সংখ্যালঘু নীতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এখন দেখার, ভারতের কড়া বার্তার পর পাকিস্তান প্রশাসন এই বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের পথে হাঁটে কি না।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement