Balen Shah: নেপালের 'হানি সিং'বালেন্দ্রই হয়তো এবার প্রধানমন্ত্রী! র্যাপ থেকে রাজনীতি, নেপালের বিপ্লবের নতুন হিরো বালেন শাহ
১৯৯০ সালে জন্ম, টেরাই অঞ্চলের মধেশি পরিবারে বড় হওয়া। পড়াশোনা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কিন্তু প্রাণটা ঢেলেছিলেন র্যাপে। তার গানেই বারবার শোনা গিয়েছে, দুর্নীতি, বৈষম্য আর নেতাদের বিরুদ্ধে আগুনঝরা কথা। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে একাই হারিয়ে দেন সব বড় দলকে।
Balen Shah: তিনি দেশের জনপ্রিয়তম আন্ডারগ্রাউন্ড ব়্যাপার (Underground Rap Star)। তাঁর ব়্যাপের ছন্দে উদ্বুধ হয় গোটা দেশের তরুণ প্রজন্ম। তিনিই (Balendra Shah )বছর তিনেক আগে নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে জিতে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসাবে ভাল কাজ করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তিনিই কদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। জোর জল্পনা, নেপালের সেই জনপ্রিয় ব়্যাপার তথা রাজনীতিবিদ বালেন্দ্র শাহ-ই হলেন দেশের গণঅভুত্থানের মুখ। কেপি শর্মা ওলি-র পর বালন শাহ-ই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে নেপালে জল্পনা বাড়ছে। কাঠমান্ডুর আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ দুনিয়ায় জনপ্রিয়তা পান বালেন। তাঁর গান ‘বলিদান’ (ত্যাগ) ইউটিউবে সাত মিলিয়নেরও বেশি ভিউ পায়। সেই গানে তিনি রাজনীতিকদের আখ্যা দিয়েছিলেন, "দেশ লুটে নেওয়া চোর।"সেই গানের পর থেকে নেপালজুড়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম যোগ দেয়।
টিয়ার গ্যাস আর ধোঁয়ায় ঢাকা রাস্তায় গলা ফাটিয়ে শোনা যাচ্ছে, "বালেন ফর পিএম!"। বয়স মাত্র ৩৫, একসময় ছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপার। এখন তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র। সেই বালেন শাহকেই নেপালের জেনারেশন জেড আন্দোলনের ভরসা বানিয়েছে দেশজোড়া তরুণেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁকে নেপালের হানি সিং, অনেকে আবার নেপালের সিধু মুসে ওয়ালা বলে ডাকেন। আজ, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন টানা দু’দিনের হিংসাত্মক বিক্ষোভের পর। অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড: "বালেন দাই, টেক দ্য লিড!"তবে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পরেও নেপালে হিংসা থামেনি। এখনও বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন, মন্ত্রীদের বাসভবনে আগুন দেওয়া চলছে।
দেখুন বালেন শাহ-র ব়্যাপ গান
বালেন শাহ: র্যাপার থেকে মেয়র, মেয়র থেকে কি প্রধানমন্ত্রী?
১৯৯০ সালে জন্ম, টেরাই অঞ্চলের মধেশি পরিবারে বড় হওয়া। পড়াশোনা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কিন্তু প্রাণটা ঢেলেছিলেন র্যাপে। তার গানেই বারবার শোনা গিয়েছে— দুর্নীতি, বৈষম্য আর নেতাদের বিরুদ্ধে আগুনঝরা কথা। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে একাই হারিয়ে দেন সব বড় দলকে। ৬১ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে হন শহরের ইতিহাসে প্রথম নির্দল মেয়র। অবৈধ বিল্ডিং ভাঙা, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া স্কুলে অভিযান, বাগমতী নদী পরিষ্কার, একের পর এক সাহসী পদক্ষেপে জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও। টাইম ম্যাগাজিনের "টপ ১০০ পার্সোনালিটিজ"-এ জায়গা পেয়েছিলেন ২০২৩ সালে।
দেখুন খবরটি
নেপালে তরুণ প্রজন্মের চোখে 'বালেন এফেক্ট'
প্রতিবাদে বয়সসীমা থাকায় রাস্তায় নামতে পারেননি। তবে ফেসবুকে লিখেছেন— “আমার সম্পূর্ণ সহানুভূতি তরুণদের সঙ্গে। ধ্বংস নয়, এবার আলোচনায় যেতে হবে।”তবু তরুণেরা তাঁকেই মানছে তাদের কণ্ঠস্বর। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে হ্যাশট্যাগ #BalenForPM। নেপালের বিখ্যাত অভিনেতা থেকে শুরু করে সাধারণ ছাত্রছাত্রী— সবার মুখে একটাই নাম।
সামনে কোন পথ?
সংবিধান অনুযায়ী বালেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য। বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন, তবে সংসদীয় রাজনীতির জটিল দুনিয়ায় এককভাবে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেল ইতিমধ্যেই নতুন মুখ খুঁজছেন। বালেন শাহর নামও তালিকায় ঘুরছে, পাশাপাশি রয়েছেন রবি লামিছানে। কিন্তু জেনারেশন জেড আন্দোলনের রাস্তায় যে স্লোগান উঠছে, তা স্পষ্ট,"আমরা বদল চাই, আর এবার বালেনকে চাই।"
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫–এর এই দিনটা ইতিহাসে ঢুকে গেল "Gen Z বিপ্লব"নামে। ঘটনার শুরু চার দিন আগেই। ৪ সেপ্টেম্বর, নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রক হঠাৎ করেই ২৬টা বড়ো বড়ো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, এক্স সব বন্ধ করে দিল। কারণ হিসাবে দেখানো হল, নাকি এগুলো নতুন সরকারি রেজিস্ট্রেশন আইন মানেনি। কিন্তু দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের একে সরাসরি সেন্সরশিপ, জনগণের কণ্ঠরোধ করল। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হলেন তরুণেরা।
“হামি নেপাল”স্লোগানেই দেশের ক্ষমতা বদল
কারণ, ওই সোশ্যাল মিডিয়াই তো তাদের খবরের কাগজ, বিনোদন, ব্যবসা, আর আড্ডার জায়গা। তার ওপর টিকটকে তখন ভাইরাল হচ্ছিল নেপালের মন্ত্রী-এমপিদের ছেলেমেয়েদের বিলাসী জীবনের ভিডিও। দেশের মাথাপিছু আয় যেখানে মাত্র ১৩০০ ডলার, সেখানে নেতা-মন্ত্রীর কাছে বিদেশি গাড়ি, ব্র্যান্ডেড পোশাক, দামি হোটেল। যা দেখে সাধারণ তরুণরা ক্ষেপে উঠেছিল। ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে কাঠমান্ডুতে মাইতিঘর মান্ডলা আর সংসদ ভবনের সামনে ঢল নামে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর। কারও নেতৃত্ব নেই, কোনও দল নেই। নামের ব্যানার শুধু একটা: “হামি নেপাল”। স্লোগান ওঠে, অনেক হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে, এখনি দুর্নীতি বন্ধ কর। (“Enough is enough!”, “End corruption now!”।