Annapurna Bhandar Scheme: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা প্রকাশ, কারা টাকা পাবেন, কারা পাবেন না
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য এল অত্যন্ত স্বস্তির খবর। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যজুড়ে যে প্রশ্নটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছিল, চলতি মাসের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা কবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, অবশেষে তার সদুত্তর মিলেছে।
Annapurna Bhandar Scheme: পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য এল অত্যন্ত স্বস্তির খবর। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যজুড়ে যে প্রশ্নটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছিল। চলতি মাসের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা কবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অবশেষে তার সদুত্তর মিলেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অনুদানের অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।
ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের বহু সাধারণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলাদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
কবে থেকে শুরু হলো টাকা দেওয়া
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবসের পরপরই এই অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী ১৭ই অগাস্ট থেকে ধাপে ধাপে যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদানের অর্থ ক্রেডিট হতে শুরু করেছে। রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী থাকায় প্রযুক্তিগত সুরক্ষার খাতিরে দফায় দফায় টাকা পাঠানো হচ্ছে। যাঁদের জমা দেওয়া আবেদন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, তাঁরা খুব শীঘ্রই ব্যাংকের এসএমএস পেয়ে যাবেন।
আবেদন বাতিল ও কড়া যাচাই প্রক্রিয়া
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষের কাছাকাছি আবেদন জমা পড়েছিল। তবে কঠোর যাচাইকরণের পর ১৭ লক্ষেরও বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে এবং শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বাসিন্দাসংক্রান্ত নথিপত্রে অসামঞ্জস্য থাকার কারণে বহু আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
যে সব কারণে আবেদন বাদ পড়েছে
আয়ের সীমা:পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
সম্পত্তি ও চাকরি: তিনটির বেশি পাকা ঘর থাকলে, পরিবারে কেউ সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হলে কিংবা আয়কর প্রদানকারী হলে সেই আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
নথিপত্রের ভুল: নাম বা বানানে অমিল, নিষ্ক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (KYC না থাকা), এবং ভুলবশত একাধিকবার জমা দেওয়া আবেদনপত্রগুলি বাতিল করা হয়েছে।
আবেদনের স্ট্যাটাস পরীক্ষার পদ্ধতি
যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁরা রাজ্য সরকারের নির্ধারিত পোর্টালে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর দিয়ে আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন। স্ট্যাটাসে 'Approved' লেখা থাকলে বুঝতে হবে শীঘ্রই অর্থ জমা হবে। আর 'Under Enquiry' দেখালে বুঝতে হবে নথিপত্র ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। অনলাইন সমস্যার ক্ষেত্রে স্থানীয় বিডিও বা পুরসভা অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
বাতিল আবেদনকারীদের জন্য করণীয়
যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের হতাশার কিছু নেই। নথিপত্রে সামান্য ভুল বা ব্যাংকের সমস্যার কারণে টাকা আটকে থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঠিক নথিপত্র নিয়ে নিকটবর্তী সরকারি কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে অবিলম্বে ব্যাংকে গিয়ে কেওয়াইসি (KYC) জমা দিয়ে তা সক্রিয় করতে হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনো প্রকৃত যোগ্য পরিবার যেন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।