কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাটে মাছের ভোগ খেলেন শুভেন্দু অধিকারী, বিতর্কের মাঝে বার্তা বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের

কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মন্দির চত্বরে মাটিতে বসে গ্রহণ করলেন ঐতিহ্যবাহী মাছের ভোগ।

West Bengal CM Suvendu Adhikari Eats Fish Bhog at Kalighat Temple (Photo Credits: PTI)

Suvendu Adhikari Eats Fish Bhog at Kalighat Temple:  কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মন্দির চত্বরে মাটিতে বসে গ্রহণ করলেন ঐতিহ্যবাহী মাছের ভোগ। যে পাতের খাবারে ছিল মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তী পোলাও। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপূজায় নিরামিষ আহার গ্রহণ নিয়ে বাগানেশ্বরের ধাম প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর (বাগেচ্ছা বাবা) মন্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের মাঝেই শুভেন্দুর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কালীঘাটের শতবর্ষের ঐতিহ্য ও আমিষ ভোগ

কালীঘাট মন্দিরে দেবী কালীকে বলিপ্রথার পর আমিষ ভোগ নিবেদন করার শতবর্ষ পুরোনো ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে বলির পাঁঠার মাংস এবং মাছ দেবীকে নিবেদন করার পর ভক্তদের মধ্যে তা ভোগ হিসেবে বিতরণ করা হয়। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী জানিয়েছেন, " CM শুভেন্দু অধিকারীর এই আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা প্রমাণ করে যে, বিজেপি বাংলার নিজস্ব আস্থা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান করে।"

দেখুন ভিডিও

 

বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যে

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি বয়ান ঘিরে। তিনি বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপূজার সময় মাছ ও মাংস বর্জন করার আবেদন জানান। এমনকি যারা এই উৎসবে আমিষ আহার গ্রহণ করেন, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও আখ্যা দেন। বাংলায় ভোজনরসিক বাঙালি সংস্কৃতিতে মাছ-মাংস ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং একাধিক দেবী মন্দিরেও আমিষ ভোগের চল রয়েছে। ফলে তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করল বিজেপি

বিতর্ক দানা বাঁধতেই রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট জানানো হয়, কোনো ধর্মগুরু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বাংলার মানুষ কী খাবেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও উল্লেখ করেন, বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসকে সবার সম্মান করা উচিত। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী জানান যে শাস্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতেই পারেন এবং তা গ্রহণ বা বর্জন করা সাধারণ মানুষের একান্তই নিজস্ব বিষয়। তিনি আরও যোগ করেন, বিশেষ কিছু ধর্মীয় তিথিতে তিনি নিজে সাৎভিক আহার গ্রহণ করলেও, বাংলার ঐতিহ্য ও রীতি মেনে কালীমাতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত আমিষ প্রসাদ তিনি সানন্দে গ্রহণ করেন। কৌশিকী অমাবস্যায় তাঁর এই পদক্ষেপ বাঙালি ঐতিহ্যের পক্ষেই এক জোরালো বার্তা দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement