SIR Document: কি থাকলে এসআইআর থেকে কিছুতেই বাদ পড়বে না আপনার নাম
এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি বাড়িতে বুথস্তরের অফিসার (BLO)গিয়ে একটি ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পৌঁছে দেবেন। এই ফর্মের সঙ্গে দিতে হবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি।
SIR Document: দীর্ঘ ২৩ বছর পর বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) হতে চলেছে। আর কমাস পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন (West bengal Assembly Elections 2025)। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা তৈরি হবে। ২০০২ সালে এ রাজ্যে SIR হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের ভোটারদের মধ্যে নানা জিনিস নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সবার আগে জেনে নেওয়া যাক SIR-নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস।
SIR কী ও কেন
'Special Intensive Revision' (SIR) হলো ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) দ্বারা পরিচালিত একটি বিশেষ ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্বাচনী তালিকা (Electoral Roll) সঠিক, আপডেটেড এবং সফলভাবে যাচাই করা হয়। এটি সাধারণত তালিকায় ভুল, পুনরাবৃত্তি, বা নাম সংশোধন, নতুন ভোটার যোগ করা এবং বর্তমান ভোটারদের তথ্য যাচাই করার জন্য চালানো হয়।
SIR-নিয়ে কীভাবে বিভ্রান্ত কাটাবেন
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আপনার বা আপনার বাবা-মা-র নাম আছে কি না তা খতিয়ে দেখুন। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের এই ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিন সেটা আছে কি না।
কীভাবে হবে এসআইআর
এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি বাড়িতে বুথস্তরের অফিসার (BLO)গিয়ে একটি ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পৌঁছে দেবেন। এই ফর্মের সঙ্গে দিতে হবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি। বিহারে এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে, এবং কমিশন সূত্রে জানা গেছে. পশ্চিমবঙ্গেও প্রায় একই নিয়মে এসআইআর কার্যকর হবে, শুধুমাত্র সামান্য কিছু পরিবর্তনসহ। যাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের কোনও নতুন নথি জমা দিতে হবে না। শুধু সেই তালিকায় নিজের নাম দেখাতে পারলেই এ বারের এসআইআরে তাঁদের নাম নিজে থেকেই অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোন ১১টি নথির একটি লাগবে
কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথি নিম্নরূপ:
১) কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন বা পেনশনপ্রাপ্ত এমন ব্যক্তির সরকারি পরিচয়পত্র।
২) পয়লা জুলাই ১৯৮৭ সালের আগে ব্যাংক, পোস্ট অফিস, এলআইসি বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া কোনও সরকারি নথি।
৩) জন্ম সনদ বা বার্থ সার্টিফিকেট।
৪) পাসপোর্ট।
৫) মাধ্যমিক বা তার চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
৬) রাজ্য সরকারের স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের সনদ।
৭) বন মর্যাদা সার্টিফিকেট।
৮) জাতিগত সনদ (Caste Certificate)।
৯) নাগরিকদের 'জাতীয় সনদ নথিভুত্তকরণ বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (NRC)।
১০) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক নিবন্ধন রেকর্ড।
১১) জমি বা বাড়ির দলিলপত্র।
এছাড়া কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে আধার কার্ড-কেও পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত ১১টি নথির যে কোনও একটি এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা বা মায়ের নাম প্রমাণ করতে পারলেই নাগরিকদের নতুন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।
কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়
কমিশনের দাবি, নির্বাচনী তালিকাকে শুদ্ধ করতেই SIR করা হয়। নতুন ভোটারদের নিবন্ধন নিশ্চিত করা। ভোটারদের পরিচয় এবং ঠিকানা যাচাই করা।
SIR-র প্রক্রিয়া-
নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ৬০ দিন) এবং তারিখ ঘোষণা করে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা (Electoral Registration Officers - ERO) শহর-গ্রামে গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করেন।
SIR-এর জন্য প্রয়োজনীয় নথি
বিশেষ করে বর্তমান ভোটারদের জন্য ২০০৩-এর পর নিবন্ধিত হলে নিম্নলিখিত নথি প্রয়োজন:আধার কার্ড (Aadhaar Card)
ভোটার আইডি কার্ড,রেশন কার্ড, জন্ম সনদ (Birth Certificate), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পড়াশোনার সার্টিফিকেট।
বিরোধীদের আপত্তি কোথায়
বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজের প্রান্তিক মানুষদের হয়রানি করে ব্যাপক সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। বিরোধীদের দাবি, বিহারে ঠিক যেমনটা করা হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ভোটার তালিকায় গরমিল, ভুয়ো ভোটারদের নিয়ে প্রমাণ সহ যে অভিযোগগুলি তুলেছেন সেটার কোনও জবাব কেন দিচ্ছে না কমিশন? বিহারে কতজন ভিন্ন দেশের নাগরিকদের নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়ছে সেটা কেন জানাচ্ছে না কমিশন। এমন কথাও জানতে চেয়েছে দেশের বিরোধী দলগুলি।
(Social media brings you the latest breaking news, viral news from the world of social media including Twitter, Instagram and YouTube. The above post is embedded directly from the user's social media account. This body of content has not been edited or may not be edited by Latestly staff. Opinions appearing on social media posts and the facts do not reflect the opinions of Latestly, and Latestly assumes no responsibility for the same.)