ECI Freezes TMC Symbol: জোড়া ফুল থাকছে না উপনির্বাচনের ইভিএমে, কেন তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন

আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ঠিক আগে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর নাম এবং দলটির সংরক্ষিত প্রতীক 'জোড়া ফুল' (Flowers & Grass) ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে কমিশন।

ECI Freezes TMC Symbol: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ঠিক আগে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর নাম এবং দলটির সংরক্ষিত প্রতীক 'জোড়া ফুল' (Flowers & Grass) ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে কমিশন। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি গোষ্ঠীর কেউই এই পরিচিত নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই নতুন নাম এবং বিকল্প নির্বাচনের জন্য তিনটি করে 'মুক্ত প্রতীক' (Free Symbols) পছন্দ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

দুই গোষ্ঠীকে নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার নির্দেশ

কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত মূল গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী—কাউকেই "সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস" নামটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

বিকল্প নামের সুযোগ: ইসিআই স্পষ্ট করেছে যে উভয় গোষ্ঠী নিজেদের জন্য নতুন নাম প্রস্তাব করতে পারে, যেখানে মূল দল 'তৃণমূল কংগ্রেস'-এর নাম যুক্ত বা সংলগ্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পছন্দের তালিকা:পছন্দক্রম অনুযায়ী তিনটি বিকল্প নাম এবং কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি জারি করা 'ফ্রি সিম্বল'-এর তালিকা থেকে তিনটি করে বিকল্প প্রতীক জমা দিতে বলা হয়েছে।

দিল্লির দরবারে প্রতিনিধি দল: এই বিরোধ মেটাতে ও নিজেদের পক্ষ তুলে ধরতে ইতিমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সাথে বৈঠক করেছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রতিনিধিরাও কমিশনে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি অন্তর্বর্তীকালীন

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে এই নির্দেশটি কেবল আসন্ন উপনির্বাচনের প্রশাসনিক সুবিধার জন্য নেওয়া একটি সাময়িক ব্যবস্থা। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের আসল মালিকানা সম্পর্কিত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ইলেকশন সিম্বলস (রিজারভেশন অ্যান্ড অ্যালটমেন্ট) অর্ডার, ১৯৬৮-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ (Paragraph 15) অনুযায়ী এই দলীয় বিরোধ সম্পর্কিত মামলার শুনানি ও পর্যালোচনার কাজ জারি থাকবে। কমিশন মনে করে, মামলা চলাকালীন কোনও এক পক্ষকে এককভাবে প্রাতিষ্ঠানিক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দিলে অপর পক্ষের জন্য নির্বাচনী বৈষম্য তৈরি হতো, তাই দুই গোষ্ঠীকেই সমান সুযোগ দিতে এই পদক্ষে নেওয়া হয়েছে।

৬ অক্টোবরের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে। উভয় গোষ্ঠীই এই নির্বাচনে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে এবং মূল দলের দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় তৃণমূলের আসল নাম ও প্রতীকের ব্যবহার আটকে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বিরাট প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তৃণমূলের মূল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাটানি

রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক রদবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন ও নথিপত্রের কর্তৃত্ব নিয়ে দুই তরফই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাল্টা দাবি পেশ করেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির—উভয় পক্ষই নিজেদের 'প্রকৃত তৃণমূল' হিসেবে দাবি করেছে। আদালত ও কমিশনের একাধিক শুনানির পর ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে কোন পক্ষই যেন বাড়তি সুবিধা না পায়, সে কারণেই এই অন্তর্বর্তী আদেশ।

চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় উভয় শিবির

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তৃণমূলের অধিকার সম্পর্কিত মূল প্রশ্নের এখনও নিষ্পত্তি ঘটেনি। ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের পেশ করা নথিপত্র, সংগঠনের সমর্থন এবং আইনগত দিক বিচার-বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে—কোন শিবিরের হাতে মূল প্রতীক ও নাম ফেরত যাবে। তবে আপাতত উপনির্বাচনের আঙিনায় পৃথক নাম ও পৃথক প্রতীকেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জোড়া ফুল শিবিরের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement